মাদক পাচার দমনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভেনিজুয়েলার উপকূলে তিনটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মার্কিন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে এই মোতায়েন করছে।
এই মাসের শুরুতে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মাদুরোর বিরুদ্ধে তথ্য প্রদানের জন্য পুরস্কার ২৫ মিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করে ওয়াশিংটন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, ভেনিজুয়েলার জলসীমার দিকে তিনটি এজিস-শ্রেণীর গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার অগ্রসর হচ্ছে।
মার্কিন গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে অতিরিক্ত চার হাজার নৌসেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ
- ওয়াশিংটন মাদুরোর সাম্প্রতিক দুটি নির্বাচনী জয়কে স্বীকৃতি দেয়নি।
- তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কার্টেল দে লস সোলস (‘কার্টেল অফ দ্য সানস’) নামের একটি কোকেন পাচারকারী চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
- যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট গত মাসে এই গোষ্ঠীটিকে বিশেষ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
- অভিযোগ রয়েছে, তারা ট্রেন ডি আরাগুয়া ও সিনালোয়া মাদক চক্রকে সহায়তা দিচ্ছে, যাদের এ বছরের শুরুতে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ভেনিজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউস জানায়, ট্রাম্প মাদক পাচার প্রতিরোধে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট বলেন— “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের দেশে মাদকের স্রোত বন্ধ করতে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে আমেরিকান শক্তির প্রতিটি উপাদান ব্যবহারে প্রস্তুত।”
তিনি ভেনিজুয়েলার সরকারকে ‘মাদক-সন্ত্রাসী কার্টেল’ আখ্যায়িত করে বলেন— “নিকোলাস মাদুরো একজন পলাতক আসামি, যার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এই প্রশাসনের দৃষ্টিতে তিনি কোনো বৈধ প্রেসিডেন্ট নন।”
মার্কিন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো সোমবার ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি’ মোকাবিলায় তিনি দেশে ৪.৫ মিলিয়ন মিলিশিয়া সদস্য মোতায়েন করবেন।
