মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে এক ভয়াবহ ঘটনায় একটি সড়ক থেকে ছয়টি কাটা মানবমাথা উদ্ধার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাথাগুলোর সঙ্গে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোরে পুয়েবলা ও ত্লাক্সকালা প্রদেশকে সংযোগকারী সড়কে এ মর্মান্তিক দৃশ্য দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ জানাতে পারেনি এবং এখনো নিশ্চিত নয়, কোন অপরাধী গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে একটি কম্বলও ফেলে রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর উদ্দেশে হুমকি লেখা ছিল। বার্তাটি স্বাক্ষরিত ছিল “লা বারেদোরা” (অর্থাৎ ‘দ্য সুইপার’) নামে। যদিও পশ্চিমাঞ্চলীয় গুয়েরেরো প্রদেশে এই নামে একটি ছোট অপরাধী সংগঠন সক্রিয়, তবে তাদের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয় প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ছয়টি মাথাই পুরুষদের। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ফেডারেল কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, এই অঞ্চল মূলত ভয়াবহ কার্টেল সহিংসতার জন্য পরিচিত নয়। তবে এখানে মাদক চোরাচালানের পাশাপাশি “হুয়াচিকোলেও” নামে পরিচিত জ্বালানি চোরাচালানও বড় সমস্যা, যার মাধ্যমে অপরাধী গোষ্ঠীগুলো প্রতি বছর বিলিয়ন ডলার আয় করে। ঘটনাটি ঘটল এমন সময়ে, যখন প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের প্রশাসন দেশজুড়ে ফেন্টানিল পাচারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে।
গত জুনে সিনালোয়া প্রদেশে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়, যাদের মধ্যে চারজনের মাথা কাটা ছিল। ওই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে গ্যাং সহিংসতায় আক্রান্ত। গত মে মাসে গুয়ানাহুয়াতো প্রদেশে একটি ক্যাথলিক উৎসবে বন্দুকধারীরা সাত তরুণকে হত্যা করে।
২০০৬ সালে মেক্সিকো সরকার মাদকচক্র দমনে সেনা মোতায়েনের পর থেকে দেশটিতে সহিংসতা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আরও লাখো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
এই সাম্প্রতিক ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষত এমন এলাকায় যেখানে এতদিন বড় ধরনের কার্টেল সহিংসতা কমই দেখা গিয়েছিল।
