২০২৪ সালে রেকর্ড ৩৮৩ সাহায্যকর্মী নিহত : জাতিসংঘ

জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি বছর ২০২৪ সালে রেকর্ড ৩৮৩ জন সাহায্যকর্মী নিহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ সংখ্যা এবং এর পেছনে জবাবদিহিতার অভাবকে আন্তর্জাতিক উদাসীনতার এক “লজ্জাজনক অভিযোগ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সংস্থাটি।

বিশ্ব মানবতা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের এই সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি।

 

জাতিসংঘের হিসাবে—

  • গাজার চলমান সংঘাতে নিহত হয়েছেন ১৮১ জন মানবতাবাদী কর্মী।
  • সুদানে প্রাণ হারিয়েছেন ৬০ জন সাহায্যকর্মী।
  • বাকি হতাহত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায়।

সংস্থার দাবি, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। নিহতদের বেশিরভাগই ছিলেন স্থানীয় সহায়তা কর্মী, যারা কর্তব্যরত অবস্থায় অথবা নিজ বাড়িতে আক্রমণের শিকার হয়ে মারা যান।

অতিরিক্ত তথ্য (২০২৪ সালের পরিসংখ্যান)

পরিসংখ্যানসংখ্যা
নিহত৩৮৩ জন
আহত৩০৮ জন
অপহৃত১২৫ জন
আটক৪৫ জন

 

জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থার প্রধান টম ফ্লেচার বলেন—“একজন মানবিক সাহায্যকর্মীর ওপর আক্রমণ মানে আমাদের সবার ওপর আক্রমণ। এমনকি এটি তাদের ওপরও আক্রমণ, যাদের আমরা সেবা করি।”

তিনি আরও যোগ করেন—“এ ধরনের আক্রমণ এবং জবাবদিহিতার অভাব আন্তর্জাতিক নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতার লজ্জাজনক উদাহরণ। ক্ষমতাবানদের উচিত মানবতার স্বার্থে কাজ করা, বেসামরিক নাগরিক ও সাহায্যকর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা।”

 

এইড ওয়ার্কার সিকিউরিটি ডাটাবেসের অস্থায়ী হিসাব অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ২৬৫ জন সাহায্যকর্মী নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, সাহায্যকর্মী ও তাদের কার্যক্রমের ওপর আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন, যা যুদ্ধ ও দুর্যোগ অঞ্চলে আটকা পড়া লাখো মানুষের জীবনরক্ষাকারী সহায়তাকে বিপন্ন করছে।

জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী ও মানবিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ফ্লেচার জোর দিয়ে বলেন—“সহায়তা কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অনিবার্য নয়। এটি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।”

 

জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের এ পর্যন্ত ১৬টি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর ৮০০টিরও বেশি আক্রমণের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে। এসব হামলায় নিহত হয়েছেন ১,১১০ জনেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগী, আহত হয়েছেন শত শত মানুষ।

 

২০০৩ সালের ১৯ আগস্ট ইরাকের বাগদাদে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ভয়াবহ বোমা হামলায় জাতিসংঘের অধিকার প্রধান সার্জিও ভিয়েরা ডি মেলোসহ ২২ জন মানবতাবাদী নিহত হন। তাদের স্মরণে ওই দিনটিকে পরবর্তীতে বিশ্ব মানবতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।