গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শনিবার চালানো এই হামলা গাজা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা গাজা শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে দিতে এই অভিযান চালাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপি গাজা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রায় ২২ মাস ধরে চলা সংঘাতের পর গাজায় চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে, যা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সম্প্রতি, ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা শহর পুনর্দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন করে, এবং এই হামলা সেই পরিকল্পনার অংশ বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা কোগ্যাট জানিয়েছে, রবিবার থেকে দক্ষিণ গাজায় আরও তাঁবু ও আশ্রয় সামগ্রী পাঠানো হবে, যাতে বেসামরিক নাগরিকদের স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া যায়। কোগ্যাটের ভাষায়, “এটি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিরাপদ স্থানে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ।”
তবে হামাস এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছে, এটি গাজা শহর দখলের পরিকল্পনারই অংশ এবং একে ‘নৃশংস আক্রমণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, গাজা শহরের জেইতুন এলাকার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা সেখানে আটকে আছে, যাদের অধিকাংশেরই খাদ্য, পানি ও মৌলিক প্রয়োজনীয়তা মেটানোর উপায় নেই।
তিনি বলেন, “মানুষ খাদ্য ও পানি ছাড়া বেঁচে থাকার লড়াই করছে। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে।”
সংবাদমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ এবং অনেক এলাকায় প্রবেশে বাধার কারণে এএফপি স্বাধীনভাবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি।
গাজা শহরের বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জেইতুনসহ অন্যান্য আবাসিক এলাকায় ঘন ঘন বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। সপ্তাহের শুরুতেও হামাস ইসরাইলি স্থল আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
শনিবার এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই অভিযান পরিচালনা করছে এবং বেসামরিক প্রাণহানির ঝুঁকি কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার দেওয়া নিহতের সংখ্যার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে।
