জাপানের সম্রাট নারুহিতো শুক্রবার টোকিওর ইয়াসুকুনি মন্দিরে বক্তৃতা দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের ভূমিকার জন্য গভীর অনুতপ্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ অনুষ্ঠানে বলা হয়, যেখানে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
টোকিও থেকে এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে একজন মন্ত্রীসহ বিভিন্ন দর্শনার্থী মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন। ইয়াসুকুনি মন্দিরটি ১৯ শতকের শেষের দিকে নির্মিত হয়, যেখানে প্রায় ২৫ লক্ষাধিক জাপানি সৈন্যের স্মৃতিকে সম্মান জানানো হয়।
সম্রাজ্ঞী মাসাকোকে পাশে রেখে দেওয়া ভাষণে ৬৫ বছর বয়সী নারুহিতো বলেন, “আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। নতুন করে এক ধরনের গভীর শোক অনুভব করছি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মূল্যবান জীবন হারানো অসংখ্য মানুষ এবং তাদের শোকাহত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের অতীতের কথা মনে রেখে এবং গভীর অনুতপ্ত হয়ে আমি আন্তরিকভাবে আশা করছি, যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক ঘটনা আর কখনোই পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।”
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা একই অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। তিনি যুদ্ধের বেদনাদায়ক স্মৃতি ধরে রাখার, তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ছড়িয়ে দেওয়ার এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
মনে রাখা যায়, ২০১৩ সালের পর থেকে কোনো জাপানি প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুকুনি মন্দির পরিদর্শন করেননি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে যখন সেখানে গিয়েছিলেন, তখন বেইজিং ও সিউলে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রও এই ঘটনায় বিরল কূটনৈতিক সমালোচনা জানিয়েছিল।
পরবর্তী মাসে সম্রাট নারুহিতো, সম্রাজ্ঞী মাসাকো এবং তাদের কন্যা রাজকন্যা আইকো নাগাসাকিতে সফর করবেন। সেখানে তারা পরমাণু বোমা হামলায় বেঁচে যাওয়া মানুষদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
