খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট ২০২৫, ৬:৫৪ পিএম

বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণ রোধে বাধ্যতামূলক চুক্তির লক্ষ্যে জেনেভায় জাতিসংঘের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত ১০ দিনব্যাপী আলোচনা শুক্রবার শেষ হয়েছে। তবে কোনো সমঝোতা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
জেনেভা থেকে এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৮৫টি দেশের প্রতিনিধি রাতভর চেষ্টা করেছেন যাতে প্লাস্টিক উৎপাদন সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী দেশগুলো এবং বাণিজ্যিকভাবে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি করা যায়। তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো মূলত চুক্তিকে কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমিত রাখতে চেয়েছিল।
গত ৫ আগস্ট শুরু হওয়া আলোচনার নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়া সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনো চুক্তি সম্ভব হয়নি। আলোচনার শেষ পর্বে দেশগুলোর প্রতিনিধি জাতিসংঘের ‘পালেই দে ন্যাশন’ প্রধান সভাকক্ষে জমায়েত হয়ে বর্তমান অচলাবস্থা এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এগোতে হবে তা নিয়ে আলোচনা করেন।
নরওয়ের একজন প্রতিনিধি বলেন, “আমরা প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে এখানে কোনো চুক্তি করতে পারিনি।”
কিউবার প্রতিনিধি যোগ করেন, “আমরা একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হারিয়েছি। কিন্তু আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এবং জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। পৃথিবী এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
৩৯টি ছোট দ্বীপরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পালাউ হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বারবার এই ধরনের আলোচনায় আমাদের অর্থ ও জনশক্তি বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু জনগণ যথেষ্ট অগ্রগতি দেখেনি।”
আলোচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ব্রিটেন, কানাডা এবং আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ‘হাই অ্যাম্বিশন কোয়ালিশন’ প্লাস্টিক উৎপাদন কমানো এবং প্লাস্টিকের মধ্যে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক নিষিদ্ধের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ‘লাইক-মাইন্ডেড গ্রুপ’ চেয়েছে চুক্তির পরিধি সীমিত রাখতে। এই জোটে সৌদি আরব, কুয়েত, রাশিয়া, ইরান ও মালয়েশিয়া রয়েছে।
কুয়েত জানিয়েছে, “আমাদের মতামত প্রতিফলিত হয়নি। একটি সম্মত পরিধি ছাড়া এই প্রক্রিয়া সঠিক পথে চলতে পারবে না এবং এটি পিচ্ছিল ঢালে পরিণত হতে পারে।”
বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, যার অর্ধেক একবার ব্যবহার করার পর ফেলে দেওয়া হয়। যদিও ১৫ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য পুনঃব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করা হয়, কিন্তু মাত্র ৯ শতাংশই রিসাইকেল হয়। প্রায় অর্ধেক বা ৪৬ শতাংশ ভাগাড়ে ফেলা হয়, ১৭ শতাংশ পোড়ানো হয় এবং ২২ শতাংশের ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে তা পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
মন্তব্য