মাদারীপুরের দুই কলেজে দুদকের অভিযান

মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলায় দুইটি কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম এবং অধ্যক্ষ ও প্রভাষকের অনুপস্থিত থেকেও বেতন উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ

কলেজের নামঅভিযোগের ধরন
ডাসার সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম
শশিকর শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রীর অনুপস্থিত থেকেও বেতন গ্রহণ

 

এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের মাদারীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান।

ডাসার সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি ছয়জন শিক্ষক ও কয়েকজন কর্মচারীকে নিয়োগ দেয়। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন:

  • সৈয়দ অলিউর রহমান
  • সুদীপ বসু
  • রেবেকা পারভান এ্যানী
  • নুরুন নাহার
  • হুমায়ুন কবির
  • মো. মামুন

সম্প্রতি ওই নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দুদক তদন্তে নামে। অভিযানের সময় কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র চাওয়া হয়।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকিয়া সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন,

“তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি ও সিনিয়রদের সিদ্ধান্তেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দুদকের চাওয়া কাগজপত্র সময়মতো সরবরাহ করা হবে।”

শশিকর শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির অভিযোগ

অন্যদিকে, অধ্যক্ষ দুর্লভানন্দ বাড়ৈ এবং তার স্ত্রী চম্পা রানী মণ্ডল, যিনি সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক, দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থেকেও বেতন গ্রহণ করছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক অভিযান পরিচালনা করে।

অধ্যক্ষ দুর্লভানন্দ বাড়ৈ বলেন, “আমার ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তা নিয়ে আমরা উচ্চ আদালতে রিট করেছি। আদালতের সিদ্ধান্তের পর সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

অভিযান পরবর্তী পদক্ষেপ

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান জানান,

“চার সদস্যের একটি টিম দুইটি কলেজে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় অধ্যক্ষদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও অনুপস্থিতির পরও বেতন উত্তোলনের মতো গুরুতর অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই অভিযানের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে দুদকের তৎপরতা আরও একবার আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলেও এটি সাড়া ফেলেছে।