পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে চাপ দিলে ফল ভালো হবে না: যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়ার হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হলে, তার প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাধর নেত্রী কিম ইয়ো জং মঙ্গলবার ওয়াশিংটনকে কড়া সতর্ক বার্তা দিয়েছেন।

সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেছেন,

“উত্তর কোরিয়াকে একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে যদি আলোচনা চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যাত হবে।”

তিনি আরও বলেন, তাঁর ভাই কিম জং উন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সম্পর্ক ‘খারাপ নয়’, তবে সেই ব্যক্তিগত সম্পর্ককে “পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের হাতিয়ার” হিসেবে ব্যবহার করা উচিত হবে না।

পটভূমি:

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির প্রথম মেয়াদে তিনি ও কিম জং উন তিনবার শীর্ষ বৈঠক করেন। তবে ২০১৯ সালে হ্যানয়ে দ্বিতীয় বৈঠক অচলাবস্থায় পড়ে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে দ্বিমত দেখা দেয়। এরপর থেকে পিয়ংইয়ং নিজের পারমাণবিক কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে।

কিম ইয়ো জং-এর বক্তব্যের মূল অংশ:
বক্তব্যের বিষয়মন্তব্য
যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাবহোয়াইট হাউসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বলেন, “তিনি এখনও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আলোচনায় উন্মুক্ত।”
কিম ইয়ো জং-এর প্রতিক্রিয়া“এ ধরনের মনোভাব একতরফাভাবে আলোচনা চাপিয়ে দেওয়ার মতো এবং এটি অপর পক্ষকে কটাক্ষ করার শামিল।”
পারমাণবিক অস্ত্র“উত্তর কোরিয়া একটি পারমাণবিক রাষ্ট্র—এটি অস্বীকার করার চেষ্টা অগ্রহণযোগ্য।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বানউত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক।
ট্রাম্পের অবস্থান:

ট্রাম্প অতীতে একাধিকবার কিম জং উনের সঙ্গে নিজের ‘চমৎকার সম্পর্ক’ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি ভবিষ্যতে আবার কিমের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার চেষ্টা করতে পারেন।

এই প্রেক্ষাপটে কিম ইয়ো জং-এর সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক স্পষ্ট বার্তা: পিয়ংইয়ং নিজেকে এক

টি পরমাণু শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং এটি থেকে পিছিয়ে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রশাসনের কূটনৈতিক কৌশলে কোনো পরিবর্তন না এলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত থাকতে পারে।