উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে গ্রিসে প্রবেশ করা অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর, দেশটির কর্তৃপক্ষ নতুন করে আসা প্রায় ২০০ অভিবাসীকে আটক করেছে। শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (পূর্বের টুইটার) এক বার্তায় জানান, লিবিয়া থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আসা একদল অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে উপকূল রক্ষী বাহিনী।
মন্ত্রী জানান, এই অভিবাসীদের আর আশ্রয় চাওয়ার সুযোগ নেই। তাদের কোনও অভ্যর্থনা কেন্দ্রে নেওয়া হবে না এবং প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত তারা পুলিশি হেফাজতেই থাকবেন।
গ্রিসের উপকূল রক্ষীরা বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানিয়েছে, দক্ষিণ ক্রিট উপকূলে তিনটি নৌযানে করে মোট ১৯০ জন অভিবাসী পৌঁছেছে। এছাড়া তুর্কি উপকূলসংলগ্ন আগাথোনিসি দ্বীপের কাছে আরও ১১ জনকে উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে একজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে মারা গেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়া থেকে গ্রিসে অভিবাসন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিসের জন্মস্থান ক্রিট দ্বীপে এই প্রবাহ আরও বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসেই ২,০০০-এর বেশি অভিবাসী সেখানে পৌঁছেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটনখাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষণা দিয়েছে, উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা নতুন অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন তিন মাসের জন্য বন্ধ রাখা হবে।
একইসঙ্গে একটি নতুন আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—গ্রিসে অবৈধভাবে প্রবেশ করলে অভিবাসীদের সর্বোচ্চ দুই বছর এবং অবৈধভাবে অবস্থান করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত আটক রাখার সুযোগ থাকবে।
অভিবাসন মন্ত্রী প্লেভরিস এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমার দেশে কেউ যদি অবৈধভাবে প্রবেশ করে, তাকে বুঝতে হবে—সে কোনো আতিথেয়তার মধ্যে নয়, নজরদারির আওতায় প্রবেশ করেছে।”
তিনি অভিবাসীদের আগমনকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমি প্রতিরোধের পক্ষে, কারণ গ্রিস কোনো হোটেল নয়।”
