ভিয়েতনামের হা লং উপসাগরে ফেরি ডুবে ৩৭ জনের প্রাণহানি

ভিয়েতনামের হা লং উপসাগরে পর্যটকবাহী একটি ফেরি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছে। শনিবার এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

রোববার পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে, এখনো ৫ জন নিখোঁজ রয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ভিএন এক্সপ্রেস জানায়, ‘ওয়ান্ডার সি’ নামের ফেরিটি ৪৮ জন যাত্রী এবং ৫ জন ক্রু নিয়ে যাত্রা করেছিল। ফেরিটি আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে উল্টে যায়।

অধিকাংশ যাত্রীই হানয় থেকে পরিবারসহ বেড়াতে এসেছিলেন, যাদের মধ্যে ২০ জনেরও বেশি শিশু ছিল।

শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রাতের দিকে ফেরির কেবিন থেকে আরও তিনজন ক্রুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বেঁচে যাওয়া এক ১০ বছরের শিশু ‘ভিয়েতনাম নেট’-কে জানায়, “আমি গভীর শ্বাস নিয়ে পানির নিচে সাঁতরে ওপরে উঠে আসি এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করি। পরে সেনাবাহিনীর একটি নৌকা আমাকে উদ্ধার করে।”

দুর্ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেন এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদারে প্রতিরক্ষা ও জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।

সরকার জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা এএফপি-কে বলেন, “দুপুর ২টার দিকে হঠাৎ আকাশ অন্ধকার হয়ে আসে। শুরু হয় শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ও প্রবল বাতাস।”

এই ঝড়ের আগে ভিয়েতনামের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েকদিন তীব্র গরম বিরাজ করছিল। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।

ভিয়েতনামের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মাই ভ্যান খিয়েম জানান, এই বজ্রঝড় ঘূর্ণিঝড় ‘উইফা’র কারণে হয়নি। উইফা বর্তমানে দক্ষিণ চীন সাগরে শক্তি সঞ্চয় করছে এবং আগামী সপ্তাহে ভিয়েতনামে আঘাত হানতে পারে।

উল্লেখ্য, হা লং উপসাগর ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। প্রতিবছর লাখো পর্যটক সেখানে ঘুরতে যান।

গত বছর টাইফুন ইয়াগির আঘাতে এই অঞ্চলের কোয়াং নিং প্রদেশে ৩০টির বেশি নৌযান ডুবে যায়। আর চলতি মাসের শুরুতেই ইন্দোনেশিয়ার বালি উপকূলে ফেরি ডুবে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়।