সিরিয়ার সুইদা প্রদেশে দ্রুজ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা বন্ধে আগাম সতর্কবার্তার পর রাজধানী দামেস্কে সিরীয় সেনাবাহিনীর সদরদপ্তরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।
এদিকে, সিরিয়ায় সংঘর্ষ পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থা জানিয়েছে, সুইদা অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৪৮ জনে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দ্রুজ যোদ্ধা, সাধারণ বেসামরিক নাগরিক, সিরীয় সরকারি বাহিনীর সদস্য এবং বেদুইন যোদ্ধারা।
মঙ্গলবার সুইদা শহরে শান্তিচুক্তি পর্যবেক্ষণের দাবি করে সিরীয় সরকারপন্থী বাহিনী প্রবেশ করলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তারা স্থানীয় বেদুইন যোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে দ্রুজদের ওপর হামলা চালায়। ফলে সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
এই সহিংসতা চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসের সংঘর্ষের পর সবচেয়ে বড় রক্তক্ষয়ী ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তখনও দামেস্ক ও সুইদায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।
২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় আসে। তবে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক শুরু থেকেই উত্তপ্ত ছিল।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ বলেন, “আমরা পরিষ্কার করে দিয়েছি—সুইদার দ্রুজ সম্প্রদায়কে ইসরাইল একা ফেলে রাখবে না। সিরীয় বাহিনী যদি পিছু না হটে, তাহলে আমরা আরও শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাব।”
এই বক্তব্যের পরপরই ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা দামেস্কে সিরীয় সেনা সদরদপ্তরের প্রবেশপথে বিমান হামলা চালিয়েছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, এ হামলায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন, যদিও নির্দিষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি।
ইসরাইলের দ্রুজ ধর্মীয় নেতা শেখ মওয়াফাক তারিফ চলমান সংঘর্ষকে “দ্রুজ জাতিসত্তার অস্তিত্বের লড়াই” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। উল্লেখ্য, ইসরাইল ১৯৬৭ সাল থেকে গোলান মালভূমির একটি অংশ দখল করে রেখেছে, যার কাছাকাছিই অবস্থিত সুইদা প্রদেশ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘সুইদা ২৪’ জানিয়েছে, শহরের পশ্চিমাংশে মর্টার ও ভারী অস্ত্রের গোলাবর্ষণে ব্যাপক ধ্বংস হয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, কিছু ‘আইনের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী’ তাদের সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং সরকারি বাহিনী এখনো পাল্টা জবাব দিচ্ছে।
মানবাধিকার বিষয়ক পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, রোববার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ৯২ জন দ্রুজ রয়েছেন—যাদের মধ্যে ২১ জনকে নির্বিচারে হত্যা করেছে সরকারি বাহিনী। নিহতদের তালিকায় আরও রয়েছেন ১৩৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ১৮ জন বেদুইন যোদ্ধা।
সহিংসতার সূত্রপাত এক দ্রুজ সবজি বিক্রেতাকে অপহরণের ঘটনা থেকে, যা পরে পাল্টা অপহরণ ও সহিংসতায় রূপ নেয়।
ইসরাইল দাবি করলেও যে তারা দ্রুজদের পাশে রয়েছে, অনেকে মনে করেন, এটি আসলে ইসলামপন্থী সিরীয় বাহিনীকে সীমান্ত থেকে দূরে রাখার কৌশল।
