ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে রোববার শুরু হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘একতরফা ও নির্বিচার শুল্কনীতি’র বিরুদ্ধে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করতে যাচ্ছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো। এসব পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, এতে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
রিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত করা খসড়া ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘আমরা একতরফা শুল্ক ও অ-শুল্ক ব্যবস্থার বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছি, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যকে বিকৃত করে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে।’
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের বাণিজ্য নীতি বিশ্ব অর্থনীতির উন্নয়ন সম্ভাবনা কমিয়ে দিচ্ছে এবং বাণিজ্যের পরিসর সংকুচিত করছে। যদিও খসড়া ঘোষণায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে এটা যে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রাজনৈতিক বার্তা, তা স্পষ্ট।
বর্তমানে ব্রিকস জোটে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি নতুন করে যুক্ত হয়েছে সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, ইথিওপিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। এই ১১টি দেশ বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে।
তবে এবারের সম্মেলনে চীন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের অনুপস্থিতি সম্মেলনের গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। ১২ বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অংশ নিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্মানজনক উপস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজনও শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতির অন্যতম কারণ হতে পারে।
ব্রাজিল এই বছর জি২০ সম্মেলন, ব্রিকস সম্মেলন এবং কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজন করে নিজেদের আন্তর্জাতিক ভূমিকা জোরদার করতে চায়। প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার জন্য আগামী নির্বাচনের আগে এটি কূটনৈতিক সক্ষমতা প্রদর্শনের বড় সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
শনিবার প্রাক-সম্মেলন ব্যবসায়িক ফোরামে লুলা বলেন, ‘সংরক্ষণশীল অর্থনৈতিক নীতির উত্থানের মুখে উন্নয়নশীল দেশগুলোর দায়িত্ব বহুপক্ষীয় বাণিজ্যব্যবস্থাকে রক্ষা করা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা।’
এদিকে সদ্য সমাপ্ত ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। তার পরিবর্তে প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
জানা গেছে, খসড়া ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান। তবে অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর আপত্তির কারণে তা রাখা হয়নি।
এবারের সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে শুল্কনীতি ছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্যনীতি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি ফের বৈশ্বিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। আর ব্রিকস নিজেদের পশ্চিমা আধিপত্যের বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এই সম্মেলন জি৭সহ পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন কাঠামোর বিকল্প কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
