হামাসের ঘোষণা: গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনা ‘অবিলম্বে’ শুরুর প্রস্তুতি

গাজায় চলমান ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যেই যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বসতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির খসড়া প্রস্তাব নিয়ে ‘অবিলম্বে এবং গুরুত্বের সঙ্গে’ আলোচনা শুরুর জন্য তারা প্রস্তুত।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলায় ৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর চেষ্টায় ফের আলোচনার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে।

আশার নতুন ইঙ্গিত এসেছে এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আসন্ন ওয়াশিংটন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

হামাসের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, কাতার, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রাপ্ত যুদ্ধবিরতির খসড়া শর্তাবলি নিয়ে তারা দ্রুত আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক। পাশাপাশি, হামাসের মিত্র সংগঠন ইসলামিক জিহাদও এই আলোচনায় অংশ নিতে সম্মতি দিয়েছে। তবে তারা দাবি জানিয়েছে, আলোচনায় গাজায় কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

অপরদিকে, হামাস স্পষ্ট করেছে যে, বন্দি বিনিময়ের পর ইসরাইল যেন আগ্রাসন চালাবে না— এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ওপর হামাসের বড় ধরনের আক্রমণের মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়। এরপর ইসরাইল হামাসকে নিশ্চিহ্ন এবং অপহৃত ইসরাইলিদের উদ্ধারের লক্ষ্যে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে।

এতদিনে কাতার, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দু’দফা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, যেখানে ফিলিস্তিনি বন্দি বিনিময়ে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হয়। বর্তমানে গাজায় আটক সব বন্দির ভাগ্য নিয়ে ইসরাইলের অভ্যন্তরে চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু শুক্রবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘আমি সর্বাগ্রে এবং সব সময় আমাদের অপহৃতদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে অটুট অঙ্গীকারবদ্ধ।’