প্রথমবারের মতো প্রশান্ত মহাসাগরে একসঙ্গে দু’টি চীনা বিমানবাহী রণতরী সক্রিয় অবস্থায় দেখা গেছে বলে জানিয়েছে জাপান। টোকিও বলছে, এটি বেইজিংয়ের সামরিক ক্ষমতা ও অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলের অংশ।
মঙ্গলবার জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সোমবার ‘শানদং’ নামের চীনা রণতরী এবং আরও চারটি যুদ্ধজাহাজ ওকিনোটোরি প্রবালদ্বীপের কাছে জাপানের অর্থনৈতিক জলসীমায় প্রবেশ করে। এই বহরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী জাহাজও ছিল। জাহাজগুলো থেকে যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের ওঠানামা করা হয়।
এর আগে, শনিবার ওই পাঁচটি যুদ্ধজাহাজকে তাইওয়ানের কাছে মিয়াকো দ্বীপ থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে যাত্রা করতে দেখা যায়।
অন্যদিকে, চীনের আরেকটি বিমানবাহী রণতরী ‘লিয়াওনিং’ এবং তার বহরও গত সপ্তাহে জাপানের অর্থনৈতিক জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। পরে তারা সেখানে সামরিক মহড়া শেষে ফিরে যায়।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এএফপি-কে জানিয়েছেন, “এটাই প্রথমবার প্রশান্ত মহাসাগরে একসঙ্গে দু’টি চীনা বিমানবাহী রণতরী সক্রিয় দেখা গেল। চীনের লক্ষ্য হচ্ছে দূরবর্তী এলাকায় তাদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করা।”
এ ধরনের নৌ ও বিমান মহড়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘প্রথম দ্বীপমালা’ (জাপান থেকে ফিলিপাইন পর্যন্ত) অঞ্চল থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এরপর চূড়ান্তভাবে ‘দ্বিতীয় দ্বীপমালা’ অঞ্চলের পশ্চিমাংশ, অর্থাৎ জাপানের ওগাসাওয়ারা দ্বীপপুঞ্জ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম পর্যন্ত এলাকায় প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে বেইজিংয়ের।
সম্প্রতি, চীনের ‘লিয়াওনিং’ রণতরী দ্বিতীয় দ্বীপমালা পার হওয়ার ঘটনাও নিশ্চিত করেছে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। গত সেপ্টেম্বরে এই রণতরী তাইওয়ানের কাছাকাছি দু’টি জাপানি দ্বীপের মাঝ দিয়ে ২৪ নটিক্যাল মাইল জলসীমা অতিক্রম করে।
টোকিও ওই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বেইজিংয়ের প্রতি গভীর উদ্বেগ জানায়।
আন্তর্জাতিক আইনে, উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অর্থনৈতিক জলসীমায় প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার সংশ্লিষ্ট দেশের রয়েছে। এই সীমানায় অন্য দেশের নৌবহর প্রবেশ নিয়ে নিয়মিতই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে জাপান।
