গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর নতুন করে তীব্র সামরিক অভিযান শুরুর পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আবারও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। রোববার ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানিয়েছে, তিন দিনের ব্যবধানে এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় ফোনালাপ।
ইসরাইল জানিয়েছে, হামাসকে পরাজিত করতে তাদের সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এতে সর্বশেষ হামলায় দুই ডজনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস এক বিবৃতিতে জানান, ফোনালাপে গাজার মানবিক পরিস্থিতি এবং জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করার যৌথ প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বর্তমানে গাজার ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। ইসরাইলি অবরোধের কারণে এখনও সেখানে পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশে বাধা রয়েছে।
শনিবার সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘আমরা এই সংঘাতের অবসান এবং যুদ্ধবিরতির পক্ষে। মানুষের যে কষ্ট হচ্ছে, সেটি আমরা স্বীকার করি। হামাসকে এজন্য দায়ী করলেও, বাস্তবে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্ত করার পথ খুঁজতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগের দিন, আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বহু মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরাইলে ১,২১৮ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। সেই হামলায় ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে এখনও ৫৭ জন গাজায় অবস্থান করছেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এদের মধ্যে ৩৪ জন মারা গেছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মার্চ থেকে নতুন করে ইসরাইলের চালানো হামলায় আরও ৩,১৩১ জন নিহত হয়েছেন। এতে চলমান যুদ্ধের শুরু থেকে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩,২৭২ জনে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ভ্যাটিকানে নবনির্বাচিত পোপ লিও চতুর্দশের প্রথম ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদানের আগে রোম থেকে নেতানিয়াহুর সঙ্গে এই ফোনালাপ করেন।
