রুশ ড্রোন হামলার মাঝেও পুতিনের উত্তরের অপেক্ষায় জেলেনস্কি

রাশিয়ার লাগাতার ড্রোন হামলার মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরাসরি বৈঠকের জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেন ও তাদের মিত্ররা রাশিয়ার কাছে দ্রুত ৩০ দিনের পূর্ণ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও, মস্কো পাল্টা প্রস্তাবে বৃহস্পতিবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সরাসরি আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেয়।

পুতিনের এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ‘তিনি বৃহস্পতিবার তুরস্কে পুতিনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করতে প্রস্তুত।’ ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ স্বাগত জানিয়েছে।

তবে একই সময়, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্যমতে, ১১ মে রাত থেকে ১২ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাশিয়া ১০৮টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ৫৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। এসব হামলায় পূর্ব ইউক্রেনে এক ব্যক্তি নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি রেলপথ ও আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের জাতীয় রেল কর্তৃপক্ষ ‘উক্রজালিজনিতসিয়া’ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও রুশ বাহিনী অব্যাহতভাবে রেলপথে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি উভয়পক্ষ সমঝোতায় না আসে, তবে তিনি শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা বন্ধ করবেন। ট্রাম্পের মতে, ‘পুতিন আপাতত যুদ্ধবিরতি চান না, তবে বৃহস্পতিবার আলোচনায় বসতে রাজি।’

মূল কারণ নিয়ে অবস্থান
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় ‘যুদ্ধের মূল কারণ’ নিয়েই কথা হতে হবে। আলোচনার পর যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিলেও তিনি বিষয়টি নির্ভর করছে আলোচনার অগ্রগতির ওপর।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে বরাবরই ‘মূল কারণ’ হিসেবে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। তবে ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা এই দাবিকে অস্বীকার করে বলছে, রাশিয়ার আক্রমণ আসলে সাম্রাজ্যবাদী ভূমি দখলের প্রচেষ্টা।

এর আগে, ২০২২ সালের মার্চে ইস্তাম্বুলে রাশিয়া-ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং জার্মানির ফ্রিডরিশ মের্ৎস এই আলোচনার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানালেও আগে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। মের্ৎস বলেন, ‘প্রথমে অস্ত্র থামাতে হবে, তারপর আলোচনা।’

অন্যদিকে, রাশিয়ার অন্যতম মিত্র চীন সোমবার সব পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি শান্তিচুক্তি করার আহ্বান জানিয়েছে।

ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার সেনারা জানিয়েছে, তারা পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলের একটি ছোট গ্রাম দখল করেছে। একইসঙ্গে মস্কো-সমর্থিত কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের রুশ-অধিকৃত এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় চারজন নিহত হয়েছেন।