ভোটগ্রহণ শুরুর দুই দিন আগে, শনিবার কানাডার রাজনীতিকরা গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে জোরালো প্রচারণা চালান। এই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক ও বাণিজ্য নীতির হুমকির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
মিসিসাগায় আয়োজিত এক জনসভায় কার্নি বলেন, ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ শুধু কানাডা নয়, পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘কানাডিয়ানরা সেই বিশ্বাসঘাতকতার ধাক্কা সামলে উঠেছে, তবে তা কখনও ভোলা উচিত নয়।’
প্রধানমন্ত্রী কার্নি তার প্রচারণার শেষ ভাগে অন্টারিও প্রদেশে সময় কাটান। এখানকার বেশ কিছু আসন লিবারেল ও কনজারভেটিভদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে, ট্রাম্পের কঠোর শুল্ক নীতির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত উইন্ডসর শহরে একটি সমাবেশের মাধ্যমে নিজের প্রচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানবেন কার্নি।
অন্যদিকে, রক্ষণশীল নেতা পিয়েরে পোইলিভর প্রচারণা চালান ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ও অন্টারিওতে। তিনি ট্রুডো-কার্নি সরকারের দুর্বল অর্থনৈতিক নীতিকে কানাডার জন্য হুমকি বলে আখ্যা দেন।
চলমান পরিস্থিতিতে জনমত জরিপে লিবারেলদের হালকা এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। সরকারি সম্প্রচারক সিবিসি’র জরিপ অনুযায়ী, লিবারেলদের সমর্থন ৪২.৫ শতাংশ, আর কনজারভেটিভদের ৩৮.৭ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বামপন্থী নিউ ডেমোক্র্যাট ও বিচ্ছিন্নতাবাদী ব্লক কুইবেকোয়াদের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় লিবারেলদের জন্য সুবিধা হতে পারে।
এবারের নির্বাচনে আগাম ভোটের রেকর্ডও গড়েছে কানাডা। মোট ২৮.৯ মিলিয়ন ভোটারের মধ্যে ৭.৩ মিলিয়ন মানুষ ইস্টার সপ্তাহান্তে আগাম ভোট দিয়েছেন, যা আগেরবারের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি।
ভোটগ্রহণ সোমবার শেষ হবে এবং রাতেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
