ফ্রান্সের কারাগারগুলোতে অগ্নিসংযোগ ও গুলি, মাদকবিরোধী অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া

ফ্রান্সের একাধিক কারাগারে সন্দেহভাজন অগ্নিসংযোগ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা সরকারের মাদকবিরোধী কঠোর নীতির বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন ও বিচারমন্ত্রী ব্রুনো রিটেইলউ মাদক ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন। সেই প্রেক্ষিতে এসব সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সজুড়ে বেশ কয়েকটি কারাগারে গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং অন্তত এক কারাগারে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।

ডারমানিন এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) পোস্টে বলেন, “প্রজাতন্ত্র মাদক চক্রের বিরুদ্ধে জোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং তা অপরাধী নেটওয়ার্ককে চাপে ফেলছে।”

কারা কর্মীদের সংগঠন এফও জাস্টিস জানায়, “যানবাহনে আগুন দেওয়া, গেটে অগ্নিসংযোগ এবং ভারী অস্ত্র দিয়ে হামলা—সবই প্রমাণ করে কারাগার ও কর্মীরা হামলার টার্গেটে পরিণত হয়েছে।”

প্যারিসের উত্তরে ভিলেপিন্টে কারাগারের পার্কিং লটে তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়, যার মধ্যে দুটি ছিল কারা কর্মীদের। সিসিটিভিতে দেখা গেছে, দুজন ব্যক্তি আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি জ্বালানি ক্যানিস্টার উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া প্যারিসের আশেপাশে এবং দক্ষিণ ফ্রান্সের আরও তিনটি কারাগারে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

তুলনের একটি কারাগারে, ‘কালাশনিকভ ধরনের’ অস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করা হয় এবং সদর গেটে অন্তত ১৫টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

আইক্স অঞ্চলের একটি কারাগারে দুটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং ইরিজ কারা নজরদারি ইউনিটের গেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিয়ন।

এছাড়া রোববার থেকে সোমবার রাতের মধ্যে প্যারিসের একটি কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং একটি কারাগারের পার্কিং লটে আগুন লাগানো হয়েছে।

এফও জাস্টিস এক বিবৃতিতে এসব ঘটনাকে “প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ” বলে উল্লেখ করেছে এবং সরকারের কাছে ‘দৃঢ় ও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আরেকটি ইউনিয়ন উফাপ উনসা জাস্টিসের জাতীয় সম্পাদক উইলফ্রিড ফঙ্ক বলেন, “কারাগারগুলো সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দাবি রাখে, কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও ব্যবস্থা নেই।”

মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলার স্থানগুলোতে কিছু নৈরাজ্যবাদী স্লোগান পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।