গাজায় ইসরাইলি হামলায় একই পরিবারের ১০ জন নিহত

গতকাল শুক্রবার গাজার দক্ষিণাঞ্চল খান ইউনিসে ইসরাইলি বিমান হামলায় একই পরিবারের ১০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাতজনই শিশু। ফিলিস্তিনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায়, ফারা পরিবারের ওপর চালানো এই হামলার পর মরদেহগুলো হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে ১৮ মার্চ থেকে ইসরাইলের নতুন হামলা শুরু হওয়ার পর গাজায় কয়েক ডজন হামলায় মূলত নারী ও শিশুরাই নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলছে, ইসরাইলি উচ্ছেদের কারণে মানুষগুলো জোরপূর্বক ছোট জায়গায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা এই হামলার ঘটনা তদন্ত করছে। পাশাপাশি তারা দাবি করেছে, তারা ওইদিন দক্ষিণ গাজায় ৪০টি “সন্ত্রাসী স্থাপনা”তে হামলা চালায় এবং দুই হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করে।

এই এক মাসে গাজায় অন্তত ১,৫৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০,৯১২ জনে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এই হামলাকে বর্বরতা আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, জাতিসংঘ জানিয়েছে, নতুন করে বাস্তুচ্যুতি হওয়া মানুষদের মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা ও খাদ্য সংকটে পড়েছেন এবং কেউ কেউ কবরস্থানে তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস বলছে, গত ১৮ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিলের মধ্যে গাজায় ২২৪টি বিমান হামলায় নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়েছেন। যদিও ইসরাইল দাবি করে, হামাস যোদ্ধারা বেসামরিক লোকদের মাঝে লুকিয়ে থাকে, তবে হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইলে হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়, যাতে ১,২১৮ জন ইসরাইলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।