সিরিয়ার লাতাকিয়ায় বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ১০, আহত ১৪

সিরিয়ার উপকূলীয় শহর লাতাকিয়ায় একটি অবিস্ফোরিত গোলার বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে পৌঁছেছে, আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দামেস্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শনিবার একজন স্ক্র্যাপ ডিলার ভুলভাবে একটি অবিস্ফোরিত গোলা ব্যবহারের চেষ্টা করলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, লাতাকিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-রিমাল এলাকায় অবস্থিত একটি হার্ডওয়্যার দোকানে বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রাথমিকভাবে ৮ জনের মৃত্যুর খবর দেওয়া হলেও পরে তা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদ সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও একজন নারী রয়েছেন, এছাড়া আহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।

বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, স্ক্র্যাপ ডিলার লোহা সংগ্রহের চেষ্টা করার সময় ভুলভাবে অবিস্ফোরিত একটি গোলা ব্যবহারের চেষ্টা করলে এটি বিস্ফোরিত হয়।

শনিবার গভীর রাতে সানা জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ব্রিটেনভিত্তিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসও ঘটনাটিকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, একজন বাসিন্দা অবিস্ফোরিত গোলা কাটার চেষ্টা করছিলেন, তখনই বিস্ফোরণ ঘটে।

লাতাকিয়ার ৩২ বছর বয়সী বাসিন্দা ওয়ার্দ জামমৌল এএফপিকে বলেন, “আমি একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, একটি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। চারদিকে ধোঁয়া আর ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়েছে, আহতদের চিৎকারে চারপাশ আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে।”

সানা প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যস্ত, আর স্থানীয়রা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সহায়তা করছে।

গত মাসে বেসরকারি সংস্থা ‘হিউম্যানিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন’ এক প্রতিবেদনে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে অবশিষ্ট থাকা অবিস্ফোরিত অস্ত্রের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রায় ১০ লাখ গোলাবারুদ নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১ লাখ থেকে ৩ লাখ এখনো বিস্ফোরিত হয়নি।