টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে

কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে; অপরদিকে কাউনিয়া পয়েন্টেও বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই।পানি নিয়ন্ত্রণে ডালিয়া পয়েন্টের সবগুলো গেইট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে সংলগ্ন লালমনিরহাট পাঁচ উপজেলার নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা ফের বন্যার আশঙ্কা করছেন।

টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে

শুক্রবার দুপুর ৩টায় তিস্তা ব্যারাজের দোয়ানী পয়েন্টে নদীর পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৬ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার); যা বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানায় পাউবো। পাউবোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকাল ৩টায় গত ২৪ ঘণ্টায় দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে তিস্তার পানি কিছুটা ওঠানামা করে বিপৎসীমায় পৌঁছায়। ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়া ও চিলমারী পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে বিপৎসীমার ৯০ সেন্টিমিটার ও ৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে ওই সময়ে ধরলার পানি কিছুটা কমেছে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা নদনদীর পানি সময় বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানায় পাউবো।

 

তিস্তার ব্যারেজ

 

সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহ্বানের পাশাপাশি বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর তালিকা তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত এবং গো খাদ্য মজুত রাখার পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একইসঙ্গে বাঁধের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং ভগ্ন রাস্তা-বাঁধ মেরামতের ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ভারতের আসাম ও অরুণাচলে ভারী বৃষ্টির কারণে উজানের ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টিপাতে নদনদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। কয়েকদিনের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমায় পৌঁছাতে পারে। ফলে জেলার সদরের কিছু অংশ, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে স্বল্পমেয়াদী বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। পানি বিপৎসীমায় পৌঁছালেও খুব বড় বন্যার আশঙ্কা নেই। 

 

টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে

 

লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শুক্রবার বিকেল থেকে ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোতে তিস্তার পানি ঢুকছে। রাতে তিস্তার পানি আরও বাড়লে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে মানুষজন নিরাপদ চলে আসবে।’ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আনতে নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা।

Leave a Comment