ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনা হবে এলএনজি হিসেবে

ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনা হবে এলএনজি হিসেবে। ভোলা সদরের ইলিশা-১ গ্যাসকূপ থেকে বিদ্যুত কেন্দ্রে সরবরাহের পাশাপাশি সিএনজি হিসেবে ঢাকায় আনা হবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোরেশন কোম্পানি (বাপেক্স) সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় এনে গ্যাস বিক্রির দায়িত্ব পাচ্ছে ইনট্রাকো।  ২০১৮ সালের দিকে ভূ-তাত্ত্বিক জরিপের পর গ্যাসের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে এ বছরের ৯ মার্চ ভোলার ইলিশা-১ কূপ খনন করে বাপেক্সে। রাষ্ট্রীয় এ সংস্থার তত্ত্বাবধানে রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাসপ্রোম এ খনন কাজ সম্পন্নের পর মাটির ৩ হাজার ৪৩৩ মিটার গভীরতায় এই গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়, যা প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এ গ্যাসক্ষেত্রে ২ হাজার কোটি ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোরেশন কোম্পানির (বাপেক্স) ভূতত্ত্ব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, আরো কূপ খনন করলে আরো মজুদ পাওয়া যাবে।

ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনা হবে এলএনজি হিসেবে

দেশে বর্তমানে ২২টি গ্যাসক্ষেত্রের মোট ৪৩টি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। ২ কোটি বা ২০ মিলিয়ন ঘনফুটের চেয়ে বেশি গ্যাস আসে এমন গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে ১০টি। সেই হিসাবে ভোলার নতুন এ কূপকে বড় হিসেবেই বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনা হবে এলএনজি হিসেবে

বাপেক্স বলছে, ইলিশা-১ কূপ একটি আলাদা গ্যাস ক্ষেত্র হতে পারে, যা এখন সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। সব ঠিক থাকলে ভোলার ৯টি কূপে মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ দশমিক ৭ টিসিএফ।বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, ইলিশা গ্যাসক্ষেত্রের আশেপাশে আরও কূপ খনন করা হবে। সেখানেও আরও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ভোলা থেকে গ্যাস আনতে প্রাথমিকভাবে বেসরকারি কোম্পানি ইন্ট্রাকোর সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি করছে সরকার। সরকারি কোম্পানি সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি থেকে গ্যাস কিনে তা সিএনজিতে রূপান্তরিত করে তিতাস গ্যাস কোম্পানি এলাকার শিল্পকারখানায় সিএনজি বিক্রি করবে ইন্ট্রাকো।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, ইন্ট্রাকোর মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে দৈনিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আনা হবে। পরে ২০ মিলিয়ন ঘনফুটে তা উন্নীত করা হবে। ময়মনসিংহের ভালুকা ও গাজীপুরে জ্বালানিসংকটে থাকা কারখানাগুলো গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার পাবে। দৈনিক ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সিএনজিতে পরিণত করে পরিবহনের জন্য ৬০টি কম্প্রেসর ও ২৩৮টি ক্যাসকেড ট্যাংকার প্রয়োজন। ইন্ট্রাকো বিশেষভাবে রূপান্তরিত ট্রাকে সিলিন্ডার বসিয়ে তাতে করে সিএনজি আনবে।

 

ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনা হবে এলএনজি হিসেবে

 

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, পরিকল্পনা অনুসারে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাতে হবে। ২০২২-২৫ সময়ের মধ্যে পেট্রোবাংলা ৪৬টি অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সাগরে ও স্থলে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম আরও বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment