ক্রেতারা এখন বলেন, ভালো জিনিস না দিলে ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করবো: মহাপরিচালক

ক্রেতারা এখন বলেন, ভালো জিনিস না দিলে ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করবো: মহাপরিচালক। ক্রেতাদের মধ্যে এই সচেতনতার কারণে ভালো পণ্য দিতে বাধ্য হচ্ছে বিক্রেতা, বললেন ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম শফিকুজ্জামান। আমাদের নতুন সময়কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জনবল সংকটের মধ্যেও ক্রেতাদের আস্থার জায়গা তৈরি করেছে অধিদপ্তরটি।

দেশের ১৭ কোটি ভোক্তার অধিকার সরাসরি  দেখভাল করার একমাত্র প্রতিষ্ঠান ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ২০০৯-১০ থেকে ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল  পর্যন্ত মোট অভিযোগ এসেছে ৯৪ হাজার ৫৫টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৮৬ হাজার ৫০৫টি। আর অনিষ্পন্ন হওয়া অভিযোগের সংখ্যা ৭ হাজার ৫৫০।

এদিকে জুলাই ২০২২ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ৬৭৭ টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ নিষ্পত্তির মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে ১৭ কোটি ৫৯ লাখ ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা।

ক্রেতারা এখন বলেন, ভালো জিনিস না দিলে ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করবো: মহাপরিচালক

ক্রেতারা এখন বলেন, ভালো জিনিস না দিলে ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করবো: মহাপরিচালক

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন,  ক্রেতাদের অভিযোগে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ পত্রিকা ও টেলিভিশনে দেখে বর্তমানে অনেক নাগরিক ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জেনেছে। মহানগর এবং জেলা পর্যায়ের বেশিরভাগ ক্রেতাই এখন তাদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন হয়েছে। এখন উপজেলা এবং গ্রামে ক্রেতাদের নায্যমূল্যে পণ্য পাইয়ে দিতে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি আমরা।

দেশের আটটি বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ে কার্যালয় আছে এই অধিদপ্তরের। এসব কার্যালয়ে মোট জনবল ২১৭ জন, যার মধ্যে কর্মকর্তা ৯৬ জন। জনবল সংকট প্রসঙ্গে এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, আমরা আরো ২৯ জন কর্মকর্তা সম্প্রতি নিয়োগের জন্য কাজ করছি।

১৭ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিটিং আছে। আশা করছি অল্প কিছুদিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। তখন ক্রেতাদের অভিযোগ আরো অল্প সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা যাবে এবং আরো অনেক বেশি অভিযান পরিচালনা করা যাবে।

 

ক্রেতারা এখন বলেন, ভালো জিনিস না দিলে ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করবো: মহাপরিচালক

 

ই-কমার্স প্রতিষ্টানগুলোর জালিয়াতির বিষয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করা যায় না। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হয়। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করতে নতুন আইন তৈরির প্রস্তাব করেছি আমরা। এছাড়া তাদের সাইটের প্রতিটি পণ্যের তথ্য ভাণ্ডারে এক্সেস করতে পারা এবং প্রতারণামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের সুপারিশও করা হয়েছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ নিরসনে একনিষ্ঠভাবে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে অতি সম্প্রতি ড. এম ওয়াজেদ মিয়া আর্ন্তজাতিক স্বর্ণ পদক লাভ করেছে ভোক্তার মহাপরিচালক। তিনি বলেন, বিক্রেতাদের সব অনিয়ম রাতারাতি বন্ধ করতে না পারলেও অন্তত ক্রেতাদের অভিযোগের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে নিষ্পত্তি করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে ভোক্তা অধিদপ্তর।

Leave a Comment