খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই মার্চ ২০২৩, ৮:১৩ এএম

বইমেলা মানেই পাঠকদের ভিড়। বইমেলা মানেই শত পাঠকের বই পড়ার ইচ্ছা আরো তীব্র ভাবে জাগ্রত হওয়া। বই মেলা মানেই বইয়ের ঘ্রানে হারিয়ে যাওয়ার এক উৎসব। প্রাণের বই মেলার সমাপ্তি,
সারা ফেব্রুয়ারী মাস জুড়ে চলা এই বই মেলা শেষ হলো।
আবার হয়তো আগামী বছর ফিরবে এই প্রাণের মেলা।এ মেলা মানবতা ছড়ায়, গান গায় মানবতার। তাই এখানে জঙ্গিদের উড়ো চিঠি এলেও কেউ ভয় পায় না। কারণ বইমেলায় কাগজের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে দেয়া হয় সত্য আর সৌন্দর্য। গেল ২৮দিন এক অন্যরকম মুগ্ধতায় কেটে গেছে লেখক, কবি, সাহিত্যক আর বইপ্রেমীদের।
অনেকটা গাছের ছায়া থেকে ধীরে ধীরে রোদ সরে যাওয়ার মতোই ফুরিয়ে গেল মেলার দিনগুলো। নির্মল আনন্দের এ উৎসবের পর্দা নামলো অবশেষে বেদনা জাগিয়ে। ‘পড় বই গড় দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার শেষ দিনটি ছিল অনেকটা বিষণ্নতা ছড়ানো। প্রাণচাঞ্চল্যের মধ্যে যেন বিদায়ের করুণ সুর।
মঙ্গলবার ২৮ ফেব্রুয়ারি মেলার শেষ দিনে দেখা গেছে টিএসসি থেকে লাইন ধরে বইপ্রেমীরা মেলায় ঢুকেছেন। ছিল তুমুল বেচাবিক্রিও। দম ফেলার সময় পাননি স্টলের বিক্রেতারা। কোনো কোনো স্টলে আবার উপচে পড়া ভিড় ছিল বইপ্রেমীর পাশাপাশি কবি ও লেখকদের। শেষ বারের মতো সান্নিধ্য পাওয়ার আশায় প্রিয় লেখকদের ঘিরে ধরেছিল ভক্তপাঠককূলও। তবে শেষ দিনে পছন্দের বই কেনার অবসান ঘটিয়েছেন পাঠকরা। কেউ কেউ লিস্টের কিছু বই রেখে দিয়েছেন আগামী বছরের বই মেলার জন্য।

শেষ দিনেও মেলায় এসেছে অনেক বই। অন্তত সন্তানতুল্য বইগুলো যেন মেলার মুখটা দেখতে পায়- এজন্য কি যে প্রাণপণ চেষ্টা ছিল লেখক-প্রকাশকদের। তাই তো শেষ বেলাতে এসে স্টলের শ্রীবৃদ্ধি ঘটিয়েছে সেসব বই।

বিদায়ের সুরের মধ্যে শেষ দিনেও মেলায় ঢল নামতে দেখা গেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের। তবে তাদের হাতে হাতেও শোভা পেয়েছে বইও। কেউ কেউ বলছিলেন যদি, বাণিজ্য মেলার সময় বাড়ানো হয়, তাহলে বই মেলার কেন সময় বাড়ে না।

কবি, শিক্ষক ও গবেষক সৈয়দা বদরুন নেসা জানালেন, খুব দ্রুতই যেন শেষ হয়ে গেল মেলা। যেন এক ছোট গল্প। শেষ হয়েও শেষ হলো না। আরো যদি বাড়ানো যেতো। একই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেখক কবি ও শিশু সাহিত্যিক মুস্তাফা মহিউদ্দীনও বললেন, যতদিন মেলা থাকে মনে হয় শত ব্যস্ততায় ডুবে থাকি এক অন্যরকম ভালোলাগার মধ্যে। আরো যদি বাড়ানো যেত।মেলায় স্থাপনকৃত আর্চয়ের পরিসংখ্যান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২৭ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল৬৩,৫৩,৪৬৩ জন।
আরও দেখুনঃ
মন্তব্য