বিশেষ প্রতিনিধি, জিলাইভ২৪.কম
Table of Contents
ঢাকাসহ সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারী হাসপাতালগুলোতে ডাক্তাররা বৈকালিক চেম্বারে স্বল্প ফি-তে রোগী দেখবেন।
রোগী দেখার ফি হবে যথাক্রমে সিনিয়র ডাক্তার ৩শ টাকা ও জুনিয়র ডাক্তার ১শ ৫০ টাকা। সরকারী ডাক্তারগণ অফিস সময়ের পর নিজ নিজ কর্মস্থলে বসে রোগী দেখবেন।
রোগী দেখার সময় বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা।
সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে টিকিট কেটে রোগী এ সেবা নিতে পারবেন।
রোগী সেবা পাবে দুই-তিন’শ টাকায়

এ ব্যবস্হায় রোগীকে পেইড সার্ভিস এর আওতায় কনসালটেশন, ডায়াগনস্টিক, ল্যাবরেটরি, রেডিওলজি, ইমেজিং ও সার্জিক্যাল সেবা দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
খুব শীঘ্রই সরকার এ ‘বৈকালিক চেম্বার’ চালু করতে চায়। এ ব্যবস্থা চুড়ান্ত করতে নীতিমালা প্রনয়নের জন্য স্বাস্হ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মোঃ সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে।
কমিটি ২৬ ফেব্রুয়ারী রোববার অগ্রগতিমূলক বৈঠক করেছে। তবে প্রতিবেদন চুড়ান্ত হয়নি।

সরকারী হাসপাতালে ‘বৈকালিক চেম্বার’ চালু করছে সরকার
কমিটি প্রধান মোঃ সাইদুর রহমান গতরাতে জিলাইভ২৪.কম কে বলেন সরকার জনগনকে স্বল্প খরচে চিকিৎসা সেবা দেয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে এ ব্যবস্হা চালু করতে আন্তরিক।
মার্চ থেকেই এ ব্যবস্হা চালু হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “মার্চ থেকে সম্ভব হবে কি না জানি না। তবে যত শীঘ্র সম্ভব এ ব্যবস্হা চালু করা হবে।”
তিনি জানান, মন্ত্রী মহোদয় দেশে ছিলেন না। তিনি এসেছেন। এখন প্রতিবেদন চুড়ান্ত করে নীতিমালার কাজ সম্পন্ন হলে মন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।

এদিকে, গত ২২ জানুয়ারি নিজ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সংবাদকর্মীদের জানিয়েছিলেন সরকারি হাসপাতালে অফিস সময়ের পর চেম্বার করবেন চিকিৎসকেরা।
মন্ত্রী আরও জানান, একটি খসড়া নীতিমালাও করা হয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে এটি চুড়ান্ত করে কার্যকর করতে এগিয়ে যাবে সরকার।
খসড়া অনুযায়ী, সিনিয়র ডাক্তারের ফি হবে ৩০০ টাকা। তা থেকে ডাক্তার পাবেন ২০০ টাকা। এসিস্ট্যান্ট পাবেন ৫০ টাকা আর ৫০ টাকা সরকারি তহবিলে জমা পড়বে।জুনিয়র ডাক্তারের ফি ১শ ৫০ টাকা। এসিস্ট্যান্ট পাবেন ২৫ টাকা আর ২৫ টাকা যাবে সরকারি তহবিলে।
প্রথামিকভাবে, দেশের ৮৩টি সরকারী হাসপাতালগুলোতে ‘বৈকালিক চেম্বার’ চালু করছে সরকার। এ ব্যবস্হা চালু করা ও পর্যায়ক্রমে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে এ সেবা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ সংশ্লিষ্ট কমিটিতে কাজ করছে মোট ২৬ জন।
প্রাথমিক সুপারিশ অনুযায়ী বিশেষায়িত ৫টি সরকারি হাসপাতাল, বিভাগীয় পর্যায়ে ৮ টি, জেলা পর্যায়ে ২০ টি ও উপজেলা পর্যায়ের ৫০টি তে এ ব্যবস্হায় স্বাস্হ্য সেবা চালু করার বিষয়ও প্রাধান্য পাচ্ছে।
ডাক্তাররা পালা করে রোগী দেখবেন। একজন অধ্যাপক সপ্তাহে দুই দিন, সহযোগী অধ্যাপক দুই দিন, সহকারী অধ্যাপক দুই দিন রোগী দেখবেন।
রোগী চাইলে টেস্ট ও ডায়াগনস্টিক সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে করে নিয়ে ডাক্তারকে দেখাতে পারবেন।
ভারত ও পাকিস্তানে এ ধরনের সেবা চালু আছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এ বর্তমানে এ সেবা চালু আছে।
বর্তমান সংসদ সদস্য ও চিকিৎসক অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত উপাচার্য (২০০৯-২০১৫) থাকাকালে এ ব্যবস্হা চালু করেন।
বিদ্যমান এ ব্যবস্হায় অনেক নিন্ম ও স্বল্প আয়ের রোগীর পরিবার উপকৃত হচ্ছেন।
আরও দেখুনঃ
