শরীফ আহমেদ । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

শরীফ আহমেদ (জন্ম: ২৫ জানুয়ারি ১৯৭০) বাংলাদেশের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন অন্যতম সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব। তিনি টানা তিন মেয়াদে জাতীয় সংসদে ময়মনসিংহ-২ আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

শরীফ আহমেদ ১৯৭০ সালের ২৫ জানুয়ারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মোঃ শামসুল হক ছিলেন একজন বরেণ্য ভাষাসৈনিক এবং ময়মনসিংহ-২ আসন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। পারিবারিক এই রাজনৈতিক ঐতিহ্যই শরীফ আহমেদকে খুব অল্প বয়সেই জনসেবায় উদ্বুদ্ধ করে। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে, যেখান থেকে তিনি এসএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ইতিহাসে স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি এবং ফুলপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক (বিএ) সম্পন্ন করেন।

রাজনৈতিক উত্থান ও সংসদীয় জীবন

বাবার আদর্শ ধারণ করে শরীফ আহমেদ তৃণমূল থেকে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন।

  • উপজেলা চেয়ারম্যান: ২০১৩ সালে তিনি প্রথমবারের মতো তারাকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমেই স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়।
  • সংসদ সদস্য: ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালের একাদশ এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন।
  • প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব: ২০১৮ সালে তিনি প্রথমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সাম্প্রতিক আইনি জটিলতা ও দণ্ড (২০২৪-২০২৬)

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শরীফ আহমেদ বড় ধরনের আইনি সংকটে পড়েন। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে।

  • দুদকের মামলা ও চার্জশিট: ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে ৩.৮৩ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং প্রায় ৪২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
  • কারাদণ্ড: ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত পূর্বাচল প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতির তিনটি পৃথক মামলায় শরীফ আহমেদকে মোট ১৮ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
  • সম্পদ জব্দ: আদালতের নির্দেশে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৩৫টি ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়।

 

একনজরে শরীফ আহমেদ

বিষয়তথ্য
পিতামরহুম শামসুল হক (সাবেক এমপি ও ভাষাসৈনিক)
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
সংসদীয় আসনময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা)
রাষ্ট্রীয় দায়িত্বসাবেক প্রতিমন্ত্রী (গণপূর্ত ও সমাজকল্যাণ)
বর্তমান অবস্থাআইনি প্রক্রিয়ার আওতাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত (পলাতক)
শিক্ষাগত যোগ্যতাএমএ (ইতিহাস), আনন্দ মোহন কলেজ

Leave a Comment