মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম (কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল নামেও পরিচিত) একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও সাবেক সাংসদ। তিনি লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কুয়েতের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি এমপি পদ হারান।
Table of Contents
মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

জন্ম ও শিক্ষাজীবন
শহিদ ইসলাম ১৯৬৩ সালের ২৮ মে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও মাতার নাম তহুরুন নেছা। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। শিক্ষাজীবনে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবন
শহিদ ইসলাম ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির আবুল খায়ের ভূঁইয়াকে পরাজিত করে লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে প্রথমবারেরমত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শহিদ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত কিন্তু মহাজোটেরপক্ষ থেকে মোহাম্মদ নোমানকে নির্বাচনে এই আসন থেকে সমর্থন দেওয়া হলে শহিদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। তবে নোমান নির্বাচন থেকে নিজেকে পরবর্তীতে প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আওয়ামী লীগ শহিদ ইসলামকে সমর্থন দেয়।

পারিবারিক জীবন
কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলর স্ত্রী সেলিনা ইসলাম একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-৪৯ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
কুয়েতে অভিযোগ ও দোষী সাব্যস্ত
২০১৯ ও ২০২০ সালে পাপুলের বিরুদ্ধে কুয়েতে মানবপাচার ও হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। অন্তত ২০ হাজার বাংলাদেশীকে কুয়েতে পাঠিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয় করেছে বলে কুয়েতের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়।
কুয়েতের সংবাদমাধ্যম আল-কাবাসের প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাপুল মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে আর্থিক অংশীদারত্ব গড়ে কুয়েতে আয় করা বেশির ভাগ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করার তথ্য প্রকাশ করা হয়। যদিও পাপুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মানব পাচারতো নয়ই, জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গেও কোনোভাবে জড়িত নই।” এর আগে ২০২০ সালের ৭ জুন তিনি কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগের হাতে গ্রেফতার হন।
পরের দিন, ২০২০ সালের ৮ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দৈনিক গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মানব পাচার ও অবৈধ মুদ্রা পাচারের চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউটর। কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০২০ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পাপুলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা করে – তার বিরুদ্ধে তার শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৪৮.৪১ কোটি টাকা স্থানান্তর করার অভিযোগ আনা হয়। দুদক এই মামলায় পাপুলের স্ত্রী সেলিনা, তাদের মেয়ে ওয়াফা এবং শ্যালিকা জেসমিনকেও আসামি করে। ডিসেম্বরে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
২০২১ সালের ২৮ জানুয়ারিতে কুয়েতের ফৌজদারি আদালত তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয় এবং মানব পাচার ও অর্থ পাচারের মামলায় ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার মিলিয়ন (৫৩ কোটি টাকা) জরিমানা করে। পরবর্তীকালে ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ ও ৬৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে জাতীয় সংসদের সদস্যপদ হারান। ২৬ এপ্রিল কুয়েতের আপিল আদালত এই কারাদন্ডের মেয়াদ বাড়িয়ে সাত বছর করে।
আরও দেখুন: