মোহাম্মদ ময়েজউদ্দিন (১৭ মার্চ ১৯৩০ – ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮৪) বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ ও সেনাশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের একজন শহীদ। তিনি ছিলেন আইনজীবী, সমাজকর্মী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।
Table of Contents
মোহাম্মদ ময়েজউদ্দিন । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

পরিচিতি
ময়েজউদ্দিন ১৯৩০ সালের ১৭ মার্চ গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বড়হরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মো. ছুরত আলী ও মাতার নাম মোসাম্মৎ শহর বানু, পিতা-মাতার চার পুত্র সন্তানের মধ্যে তিনিই জ্যেষ্ঠ। তার কন্যা মেহের আফরোজ চুমকি বর্তমানে কালীগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সাংসদ এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
শিক্ষা ও কর্মজীবন
তিনি প্রথমে নোয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয়-এ ভর্তি হন এবং এখান থেকে ১৯৪৮ সালে প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা কলেজ-এ ভর্তি হন।
ময়েজউদ্দিন ১৯৫০ সালে প্রথম বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৫৩ সালে রাষ্ট্র্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৫৫ সালে এমএ ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে এখান থেকে এলএলবি পাস করে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করার সাথে সাথে রাজনীতিতেও সক্রিয় হন।

রাজনৈতিক জীবন
শহীদ মোহাম্মদ ময়েজ উদ্দিন স্বাধীনতা পূর্ব ও পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম সাহসী ও পরোপকারী রাজনীতিবিদ যিনি ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং জাতীয় বীর হিসেবে আখ্যয়িত। তিনি ঐতিসাহিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা করার জন্য গঠিত ‘মুজিব তহবিলের’ আহবায়ক ছিলেন।
একজন বিচক্ষণ আইনজীবী ও রাজনীতিক হিসেবে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ওই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন। ময়েজ উদ্দিন আহমেদ উল্লেখযোগ্য সময় ধরে বৃহত্তর ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ এবং ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে গাজীপুর-কালীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা থেকে যথাক্রমে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ছিলেন।
মৃত্যু
১৯৮৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সেনাশাসক এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সারা দেশব্যাপী আহূত সকাল-সন্ধ্যা হরতালে একটি মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার সময় কতিপয় দুস্কৃতিকারী কর্তৃক নির্মম ভাবে ছুরিকাহত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সম্মাননা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মো. ময়েজউদ্দিনকে ২০০১ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর) ভূষিত করেন।
আরও দেখুনঃ