মোহাম্মদ ছায়েদুল হক (৪ মার্চ ১৯৪২ – ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭) একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, আইনজীবী ও মন্ত্রী।
Table of Contents
মোহাম্মদ ছায়েদুল হক । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিত
মোহাম্মদ ছায়েদুল হক ১৯৪২ খিস্টাব্দের ৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আলহাজ্ব মোহাম্মদ সুন্দর আলী এবং মাতার নাম মেহের চাঁদ বিবি।
শিক্ষাজীবন
মোহাম্মদ ছায়েদুল হক ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে অর্থনীতিতে এম এ ও ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করেন।
কর্মজীবন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী পেশায় যুক্ত ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবন
মোহাম্মদ ছায়েদুল হক ছাত্রজীবনে ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ফেডারেশন (এন এস এফ)এর মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করে। ১৯৬৮ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পর্দাপণ করেন। ১৯৬৫-৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্রার্থীকে হারিয়ে আইয়ুব খানের ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ফেডারেশন (এন এস এফ)এর ভিপি নিবার্চিত হন।
১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রথমবারের মতো নাসিরনগর আসন (কুমিল্লা-১) থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ -সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০১ নাসিরনগর আসন থেকে সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম সংসদের সংসদ -সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। শেষ জীবনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন।

মৃত্যু
আওয়ামী লীগ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মন্ত্রী থাকাকালে ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সংসদ -সদস্য
সংসদ -সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ -সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ -সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ -সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ -সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ -সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ -সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ -সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান
সংসদ -সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন।
সাধারণত সংসদ -সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ–সদস্য হন।
আরও দেখুনঃ