মোস্তফা এম এ মতিন (১ আগস্ট ১৯৩৪-২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৪) ছিলেন বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার রাজনীতিবিদ, ভাষা সৈনিক ও বিলুপ্ত ময়মনসিংহ-১৮ (বর্তমান ময়মনসিংহ-১১) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ২০২২ সালে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়।
Table of Contents
মোস্তফা এম এ মতিন । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

প্রারম্ভিক জীবন
মতিন ১ আগস্ট ১৯৩৪ সালে ময়মনসিংহের ভালুকার সাতেঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম তাহের উদ্দিন শেখ এবং মাতা হাজেরা খাতুন। ৪ ভাই ২ বোনের মধ্যে মোস্তফা মতিন চতুর্থ। তিনি মা-বাবার কনিষ্ঠ পুত্র আবদুল মতিন ১৯৫০ সালে গফরগাঁও ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক ও ১৯৫২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আইএ পাস করেন। জগন্নাথ কলেজ থেকে বি.এ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল.এল.বি. ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৬৩ সালে ঢাকা জেলা বারে আইন পেশায় যোগদান করেন।
কর্ম ও রাজনৈতিক জীবন
মতিন বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদান করে আমৃত্যু আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। এর পূর্বে মতিঝিল টি এন্ড টি হাই স্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ছাত্রাবস্থাতে রাজনীতে যুক্ত হন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সকল আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
মতিন ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদ ও ১৯৭৩ সালে বিলুপ্ত ময়মনসিংহ-১৮ আসন (বর্তমান ময়মনসিংহ-১১) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনে তিনি ময়মনসিংহ-১১ আসন থেকে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েহিলেন।
তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রবাসী সরকারের স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে সরকারের অর্থনৈতিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দুই মেয়াদে (২০০১ ও ২০০২) দায়িত্ব পালন করেন।

সংসদ সদস্য
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান
সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন।
কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
আরও দেখুনঃ
- মোসাঃ তাহমিনা বেগম । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ
- দুর্ভিক্ষ যাতে কখনই বাংলাদেশের ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য আগে থেকে কাজ করুন : সচিবদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী
- মোশাররফ হোসেন মঙ্গু । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ
- মোশারফ হোসেন । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ
- মোহাম্মদ হানিফ তার কর্মের মাধ্যমে জনগণের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবেন : রাষ্ট্রপতি