চিত্তরঞ্জন সুতার বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য।
Table of Contents
চিত্তরঞ্জন সুতার | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
চিত্তরঞ্জন সুতার ২৩ মার্চ ১৯২৮ সালে পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) উপজেলার বাটনাতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ললিত কুমার সুতার ও মাতা বেলোকা সুন্দরী। তিনি মঞ্জুশ্রী সেনকে বিয়ে করেন। এ দম্পত্তির একটি মাত্র সন্তান বাপী সুতার কলিকাতার ভবানীপুরে বসবাস করছেন। তিনি বিএম কলেজ থেকে বিএ পাস করেন।
রাজনৈতিক ও কর্মজীবন
চিত্তরঞ্জন-সুতার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আন্দোলনে শেখ মুজিবের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬৯ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার আগে তিনি শিডিউল কাস্ট ফেডারেশন নামে একটি সংগঠন করতেন। ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগ বিভক্ত হলে তিনি ন্যাপে যোগ দেন।
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের সময় নির্দলীয় ব্যানারে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বাকশালের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মনোনীত সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। ১১ আগস্ট ১৯৭৫ সালে ভারতে যাওয়ার পর আর কখনও বাংলাদেশে ফিরে আসেননি।

বিতর্ক
১৯৫১ সালের শেষদিকে তিনি পূর্বপাকিস্তানে প্রবেশ করেন। সাথে ছিলেন কালিদাস বৈদ্য ও নিরোধ মজুমদার। তিনি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (R&AW) এর কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে ভবানীপুরের ২৬ নম্বর রাজেন্দ্র প্রসাদ সড়কে বাস করতেন। ভারতীয় পাসপোর্টে তার নাম ভুজঙ্গ ভূষন রায়।
১৯৭২ সালে চিত্তরঞ্জন-সুতার ও কালিদাস বৈদ্য ইন্দিরা গান্ধির কাছে গিয়ে বাংলাদেশকে ভারতের অঙ্গরাজ্য করে নিতে চাপ দেন। তাদের বক্তব্য ছিল দ্বি-জাতিতত্ব যদি নাই থাকে সীমানা থাকবে কেন? তাদের সেই প্রচেষ্টা বাস্তবায়ন হয় নাই।
তাছাড়া তিনি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলকে হিন্দু রাজ্যে পরিণত করার জন্য “স্বাধীন বঙ্গভূমি” নামে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, এই আন্দোলনে তার নাম হচ্ছে পার্থ সামন্ত। ৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা তথা দেশ বিভাগের পর থেকে ২০০২ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ৫৩ বছরের মধ্যে প্রায় ৩৯ বছর কাটিয়েছেন কলিকাতার ভবানীপুরের সানি ভিলা নামক বাসভবনে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন।

মৃত্যু
চিত্তরঞ্জন সুতার ২৭ নভেম্বর ২০০২ ভারতের রাজধানী দিল্লীতে মৃত্যুবরণ করেন।
আরও দেখুনঃ