কাজী আকবর উদ্দিন আহম্মদ সিদ্দিক ( ৭ জানুয়ারী ১৯২৪–৯ আগস্ট ২০০৪) বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক, গনপরিষদ সদস্য ও তৎকালীন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
Table of Contents
কাজী আকবর উদ্দিন আহম্মদ সিদ্দিক | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
কাজী আকবর উদ্দিন সিদ্দিক ৭ জানুয়ারী ১৯২৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পূর্ব বাংলার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শ্রীরামপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক জীবন
কাজী আকবর উদ্দিন সিদ্দিক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক ও কুমিল্লা-৬ নবীনগর আসন (বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬) হতে ১৯৭০ সালে গনপরিষদ সদস্য ও ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভারতের আগরতলা হাপানিয়া তিতাস ক্যাম্পের প্রধান ছিলেন এবং দিল্লী চকরিয়া বিহারের দেরাদুন থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তৎকালীন সরকার মেজর জেনারেল উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের সময়কালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযুদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন।

মৃত্যু
কাজী আকবর উদ্দিন সিদ্দিক ৯ আগস্ট ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালে ৮০ বছর বয়সে মারা যান। তার স্মরণে পারিবারিক ভাবে সিদ্দিক এমপি ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শ্রীরামপুর গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।
সংসদ সদস্য:
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান
সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ