যুদ্ধক্ষেত্র ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সংঘটিত যৌন সহিংসতার অভিযোগের ভিত্তিতে ইসরায়েলকে জাতিসংঘের ‘কালো তালিকা’ বা ব্ল্যাকলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি এ সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে উল্লেখ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ জাতিসংঘের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রশ্ন তোলে।
‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইসরায়েল জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কার্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘের সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতা (Conflict-Related Sexual Violence – CRSV) বিষয়ক মহাসচিবের বার্ষিক প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এই প্রতিবেদনে সশস্ত্র সংঘাত চলাকালে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং অন্যান্য যৌন সহিংসতার অভিযোগে জড়িত রাষ্ট্রীয় বাহিনী, আধাসামরিক গোষ্ঠী ও সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে পর্যবেক্ষণ ও চিহ্নিত করা হয়।
‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, এবার ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ (Israel Prison Service – IPS) এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি ইসরায়েলি সংস্থাকে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তির জন্য পর্যবেক্ষণ তালিকায় রাখা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের এই পদক্ষেপ ইসরায়েলকে হামাস, ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএস) এবং অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে একই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, এটি জাতিসংঘের নৈতিক অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
জাতিসংঘের এই ব্ল্যাকলিস্ট মূলত সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে সংঘটিত যৌন সহিংসতার অভিযোগ পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করার একটি কাঠামো। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করা হয়।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিন অঞ্চলে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের যৌন সহিংসতার অভিযোগ সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণ কাঠামো বিষয়টি মূল্যায়নে নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ ও জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এই সিদ্ধান্তের পর জাতিসংঘ ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন।
