সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। গ্রুপ ‘বি’-এর এই লড়াইয়ে শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। বল দখল, আক্রমণ সাজানো এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টায় উভয় দলই সক্রিয় ছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব দেখায় সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি।
ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে ইউল্যাবের রক্ষণভাগের বাইরে ফাউল থেকে ফ্রি-কিক পায় সোনারগাঁও। সেটি থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও ইউল্যাবের গোলরক্ষক দুর্দান্ত দক্ষতায় বল ঠেকিয়ে দেন। প্রাথমিক বিপদ সামাল দিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে ইউল্যাব। কিন্তু পরের মিনিটেই আবারও আক্রমণে উঠে আসে সোনারগাঁও।
সপ্তম মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন রাশেদ। তাঁর নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ালে এগিয়ে যায় সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি। ম্যাচের শুরুতেই পাওয়া এই গোল দলটির খেলায় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, দ্রুত গোল হজম করায় সমতায় ফেরার জন্য ইউল্যাবকে নতুন করে আক্রমণ সাজাতে হয়।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে দুই দলই সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালায়। তবে সোনারগাঁওয়ের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় গোলের ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ইউল্যাব। প্রথমার্ধ শেষ হয় সোনারগাঁওয়ের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার মধ্য দিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্রে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে ইউল্যাব। গোল পরিশোধের লক্ষ্যে দলটি আক্রমণের গতি বাড়ায় এবং সমতায় ফেরার সুযোগ খুঁজতে থাকে। তবে সোনারগাঁওয়ের রক্ষণভাগ প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলে ব্যবধান ধরে রাখতে সক্ষম হয়। পাল্টা আক্রমণে সোনারগাঁওও ব্যবধান বাড়ানোর কয়েকটি চেষ্টা চালায়। কিন্তু আর কোনো গোল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধের স্কোরলাইনই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে গ্রুপ ‘বি’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচ থেকেই তিন পয়েন্ট অর্জন করল সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি। টুর্নামেন্টের শুরুতে জয় পাওয়ায় পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়বে বলে আশা করা যায়। তবে গ্রুপ পর্বে পরবর্তী লড়াইগুলোতে ভালো ফল ধরে রাখতে হলে আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির জন্য এবারের টুর্নামেন্টে জয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ক্রিকেটের পর ফুটবলেও সাফল্য পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্রীড়া কার্যক্রমে ইতিবাচক সূচনা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউল্যাব অল্প ব্যবধানে হারলেও ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত রাশেদের সপ্তম মিনিটের গোলই সোনারগাঁওয়ের জয়ের নায়ক হয়ে থাকল।








