ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় পারিবারিক এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মেয়ের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সেতারা বেগম নামের আশি বছরের এক বৃদ্ধা মায়ের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার পর অভিযুক্ত মেয়েকে আটক করেছে পুলিশ। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রোববার রাতে দাগনভূঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সেতারা বেগমের ছাব্বিশ বছর বয়সি মেয়ে রিনা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তিনি নিজের স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। ঘটনার রাতে ঘরের ভেতর হঠাৎ করেই কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই মায়ের ওপর চড়াও হন মানসিক ভারসাম্যহীন রিনা। হাতের কাছে থাকা রান্নার কাজে ব্যবহৃত ধারালো বটি দিয়ে তিনি মাকে উপর্যুপরি কোপান।
মায়ের ওপর হামলার পর অভিযুক্ত রিনা দ্রুত ঘরের দরজায় ভেতর থেকে হুক লাগিয়ে দেন, যাতে কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং তাৎক্ষণিক কোনো চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বয়োবৃদ্ধ সেতারা বেগম।
বাড়ির ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং আশপাশের লোকজনের সন্দেহ হলে তারা দ্রুত এগিয়ে আসেন। পরে স্থানীয়দের সম্মিলিত সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ব্যবহৃত সেই ধারালো বটিটি জব্দ করা হয়। এ সময় পুলিশ অভিযুক্ত রিনা আক্তারকে আটক করতে সক্ষম হয়। রাতেই আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্ত নারীকে আটক করার পাশাপাশি পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন একজন মানুষের মাধ্যমে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটার কারণে স্থানীয় প্রতিবেশীদের মধ্যেও গভীর অনুশোচনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।









