বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে বগুড়ার শাজাহানপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ট্রাকচালক মহিদুল ইসলাম (২৬), তাঁর সহযোগী সাকিব হোসেন (২০) এবং বগুড়া সদর উপজেলার গোলাম মোস্তফা (৪৬)। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ৪৮টি সিলিন্ডার লুট হওয়া ৪০০টির অংশ। বাকি সিলিন্ডারগুলোর সন্ধান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। লুটের ঘটনায় ব্যবহৃত মিনিট্রাকটি জব্দ করা হলেও ডাকাতির সময় ব্যবহৃত অন্য কোনো যানবাহন উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চকনুর গ্রামের তালুকদার ফিলিং স্টেশন থেকে বিভিন্ন কোম্পানির ৪০০টি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে একটি ট্রাক ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে রায়গঞ্জের রৌহা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ১৫ থেকে ১৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ট্রাকটির গতিরোধ করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা ট্রাকের চালক আসিফসহ ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর তাদের মধ্যে দুজন চালকের পাশের আসনে বসে ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এভাবে ট্রাকটি নিয়ে তারা নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে অন্য পথে এগিয়ে যায়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোর ৪টার দিকে ষোলমাইল ফায়ার সার্ভিস এলাকার একটি কবরস্থানের পাশের নির্জন সড়কে ট্রাকটি থামানো হয়। সেখানে দুটি মিনিট্রাকে ৪০০টি গ্যাস সিলিন্ডার তুলে নিয়ে যায় ডাকাত দলের সদস্যরা। এ সময় ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারীর কাছ থেকে তিনটি মুঠোফোন এবং নগদ ৮৬ হাজার টাকাও লুট করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ডিক্রির চর (গোপচর) এলাকার মৃত মোহাম্মদ পান্না উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ শফিউল্লাহ বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া সিলিন্ডারের একটি অংশ উদ্ধার করে।
ঘটনাটি পণ্যবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় পণ্য পরিবহনের সময় সড়কে সংঘবদ্ধভাবে যানবাহনের গতিরোধ করে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এ ঘটনায় কারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল, লুট হওয়া বাকি সিলিন্ডার কোথায় রয়েছে এবং পুরো পরিকল্পনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। পুলিশের অভিযান ও মামলার তদন্ত শেষ হলে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।









