বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সম্পর্কে জানতে আগ্রহী প্রবাসী, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য প্রতিদিনের মুদ্রাবাজারের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয়, বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা ও ভ্রমণের ব্যয় নির্ধারণে এসব হারের প্রভাব রয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মুদ্রা বিনিময় হারসংক্রান্ত প্রকাশিত তালিকায় মার্কিন ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরোসহ আটটি বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে তালিকাটির সর্বশেষ হালনাগাদের তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০২৬।
বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা। ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্রয়মূল্য ১৬৩ টাকা ৭ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৬৩ টাকা ২৪ পয়সা। ইউরোর ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য ১৩৮ টাকা ৫ পয়সা ও বিক্রয়মূল্য ১৩৮ টাকা ১২ পয়সা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অস্ট্রেলীয় ডলারের ক্রয়মূল্য ৮৬ টাকা ৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৮৬ টাকা ১৬ পয়সা। সিঙ্গাপুর ডলারের ক্রয়মূল্য ৯৬ টাকা ২১ পয়সা ও বিক্রয়মূল্য ৯৬ টাকা ৩০ পয়সা। চীনা ইউয়ানের ক্রয়মূল্য ১৮ টাকা ৪১ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৮ টাকা ৪২ পয়সা।
ভারতীয় রুপির ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য উভয়ই ১ টাকা ২৭ পয়সা। অন্যদিকে, জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রে উভয় হার ৭৮ পয়সা দেখানো হয়েছে।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, মুদ্রাগুলোর বিনিময় হার নিচে দেওয়া হলো।
| মুদ্রার নাম | ক্রয়মূল্য (টাকা) | বিক্রয়মূল্য (টাকা) |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২৩.৫০ | ১২৩.৩০ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৩.০৭ | ১৬৩.২৪ |
| ইউরো | ১৩৮.০৫ | ১৩৮.১২ |
| ভারতীয় রুপি | ১.২৭ | ১.২৭ |
| অস্ট্রেলীয় ডলার | ৮৬.০৫ | ৮৬.১৬ |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৬.২১ | ৯৬.৩০ |
| চীনা ইউয়ান | ১৮.৪১ | ১৮.৪২ |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৮ | ০.৭৮ |
তথ্য হালনাগাদের তারিখ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬। তালিকার হারগুলো প্রকাশিত তথ্য অনুসারে উপস্থাপন করা হয়েছে। ১৫ অক্টোবরের হালনাগাদ হার হিসেবে এগুলোর স্বতন্ত্র সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
ডলারের বিনিময় হার কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মোট খরচকে প্রভাবিত করে। ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমলে একই পরিমাণ পণ্য আমদানিতে তুলনামূলক বেশি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এর প্রভাব উৎপাদন ব্যয় ও পণ্যের বাজারমূল্যেও পড়তে পারে। তবে প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করে পণ্যের ধরন, চুক্তির শর্ত ও অন্যান্য ব্যয়ের ওপর।
অন্যদিকে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশ থেকে অর্থ পাঠানোর সময় সংশ্লিষ্ট মুদ্রার বিনিময়মূল্য বিবেচনা করেন। বিনিময় হার অনুকূলে থাকলে একই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে দেশে বেশি টাকা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে অর্থ পাঠানোর সেবা মাশুল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত হারও চূড়ান্ত প্রাপ্তির অঙ্কে প্রভাব ফেলে।
বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা কিংবা ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের জন্যও বিনিময় হার জানা জরুরি। টিউশন ফি, আবাসন, চিকিৎসা ব্যয় ও দৈনন্দিন খরচের বাজেট তৈরিতে সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রার মূল্য বিবেচনা করতে হয়। বিনিময় হার পরিবর্তিত হলে পরিকল্পিত ব্যয়ের পরিমাণও বদলে যেতে পারে।
ব্যাংকভেদে বিনিময় হার ভিন্ন হতে পারে
প্রকাশিত কোনো বিনিময় হারকে সব ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত লেনদেনমূল্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত হার, লেনদেনের ধরন, পরিমাণ এবং প্রযোজ্য মাশুলের কারণে গ্রাহকের প্রকৃত লেনদেনমূল্য ভিন্ন হতে পারে। তাই মুদ্রা কেনা বা বিক্রির আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সেদিনের কার্যকর হার জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে তথ্যের হালনাগাদের তারিখও গুরুত্বপূর্ণ। আলোচ্য তালিকায় ১৫ অক্টোবরের কথা বলা হলেও সর্বশেষ হালনাগাদ ১৩ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পরবর্তী সময়ে বাজারে কোনো পরিবর্তন হয়ে থাকলে তা এই তালিকায় প্রতিফলিত নাও হতে পারে।
আরেকটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন। প্রকাশিত তালিকায় মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি দেখানো হয়েছে। সাধারণ লেনদেনে এ ধরনের ব্যবধান অস্বাভাবিক হওয়ায় সংশ্লিষ্ট উৎস থেকে সংখ্যাগুলো পুনরায় যাচাই করা যুক্তিযুক্ত।
বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা কিংবা আন্তর্জাতিক লেনদেনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বশেষ তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কার্যকর হার এবং প্রযোজ্য চার্জ নিশ্চিত করা উচিত। এতে ভুল হিসাবের ঝুঁকি কমবে এবং আর্থিক পরিকল্পনা আরও নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হবে।









