,

আলমডাঙ্গায় তুচ্ছ বিরোধে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, আটক ১

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে ইমদাদুল হক (২৩) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর পরিচিত নাইস খন্দকারের (২৫) বিরুদ্ধে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার গোবিন্দপুর গ্রামের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাইসকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইমদাদুল ও নাইসের মধ্যে আগে থেকেই ভালো সম্পর্ক ছিল। তাঁরা একে অপরের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করতেন এবং পরিচিতজন হিসেবে মেলামেশা করতেন। বুধবার রাতে গোবিন্দপুর গ্রামের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তাঁদের মধ্যে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই বাগ্‌বিতণ্ডা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

নিহত ইমদাদুল হক আলমডাঙ্গা উপজেলার নওদা বন্ডবিল গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে। অভিযুক্ত নাইস খন্দকারও একই গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা মৃত মজনু খন্দকার।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চায়ের দোকানে বিরোধের পর ইমদাদুল বিষয়টি নাইসের মাকে জানাতে যান। এ সময় নাইস একটি লাঠি হাতে তাঁকে ধাওয়া করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দৌড়ে পালানোর সময় ইমদাদুল পড়ে গেলে নাইস তাঁর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে আহত ইমদাদুলকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিচিত দুজনের মধ্যে সামান্য বিষয় নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধের এমন পরিণতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

একই এলাকার বাসিন্দা উজ্জল হোসেন জানান, ইমদাদুল বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ফ্লাইট না হওয়ায় গত মঙ্গলবার রাতে তিনি ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া এই তরুণের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্বজনেরা শোকাহত।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নাইস খন্দকারকে আটক করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। ইমদাদুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

ময়নাতদন্ত ও তদন্তে গুরুত্ব পাবে ঘটনার প্রকৃত কারণ

ইমদাদুলের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বিরোধের সূত্রপাত, ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং কীভাবে ওই যুবক গুরুতর আহত হলেন, সেসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযুক্তকে আটক করা হলেও অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

এ ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি। পরিচিতজনদের মধ্যে ঠাট্টা-তামাশা বা মতবিরোধ কখনো কখনো উত্তেজনার কারণ হতে পারে। তবে সেই বিরোধ মেটাতে সহিংসতার আশ্রয় নিলে তার পরিণতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

আলমডাঙ্গার এই ঘটনায় এখন নিহতের পরিবার ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। পুলিশি তদন্ত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।