নিহত রেহানা বেগমের সঙ্গে জসিম উদ্দিনের দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবন ছিল। তাঁদের সংসারে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। জসিম একটি টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জসিম উদ্দিনের সঙ্গে অন্য এক নারীর সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ ছিল। এ বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। পাশাপাশি, জসিমের বেকারত্বের কারণে সংসারের খরচ মেটানো নিয়েও তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আর্থিক সংকট মিলিয়ে পরিবারে অশান্তি চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে রেহানা ও জসিমের দুই মেয়ে মক্তবে চলে যায়। এ সময় বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে জসিম তাঁর স্ত্রী রেহানার মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রেহানা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রাণহানির এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি এবং অভিযুক্তের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হবে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বক্তব্য এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণ চিত্র সামনে আসতে পারে।









