সোমবার (১২ অক্টোবর) ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬-এর আওতায় শিবালয় উপজেলার যমুনা ও পদ্মা নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং প্রজনন মৌসুমে অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে অভিযানটি চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে মৎস্য আহরণের অভিযোগে চার জেলেকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের ব্যবহৃত প্রায় ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
পরে আটক চার জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিষা রানী কর্মকার।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শেখ মনিরুল ইসলাম মনির, জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং শিবালয়ের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগী।
এ ছাড়া অভিযান পরিচালনা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা মৎস্য দপ্তর, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য দপ্তর, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড এবং শিবালয় থানা নৌ-পুলিশের সদস্যরা।
ইলিশের প্রজনন রক্ষায় নজরদারি
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে প্রজননক্ষম ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে প্রাকৃতিকভাবে ইলিশের বংশবৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে। এ কারণে সরকার নির্ধারিত সময়ে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং নদীতে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কারেন্ট জাল ব্যবহারের ফলে শুধু ইলিশ নয়, বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় মাছও নির্বিচারে ধরা পড়ে। এতে মাছের প্রজনন ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নদীর জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ ধরনের জাল জব্দ এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যমুনা ও পদ্মা নদী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদসমৃদ্ধ জলপথ। এসব নদীতে প্রজনন মৌসুমে অবৈধ মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে মা ইলিশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদীতে মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়।
শিবালয়ে চার জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া এবং বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দের ঘটনা প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের তৎপরতার বিষয়টি তুলে ধরে। নদীতে নিয়মিত নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ইলিশ সংরক্ষণের কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব।









