,

স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদ, সিলেটে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

সিলেট নগরীতে স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় হৃদয় কুমার হরিজন (৩৫) নামে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাত ৮টার দিকে নগরীর কাস্টঘর সুইপার কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন। তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় তাঁকে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় হৃদয়ের স্ত্রী পিংকী রানীর দিকে মুঠোফোন তাক করে ছবি তুলছিলেন আমিন নামে এক ব্যক্তি। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে হৃদয়ের সঙ্গে আমিনের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এরপর আমিন মুঠোফোনে যোগাযোগ করে কয়েকজন সহযোগীকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন।

পরে তাঁরা সম্মিলিতভাবে হৃদয়ের ওপর হামলা চালান। এ সময় ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সামান্য একটি প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া বিরোধ কীভাবে প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নিল, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পরিবারের দাবি, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

হৃদয় কুমার হরিজনের ছোট ভাই অজয় কুমার হরিজন অভিযোগ করেন, ভাবির ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় তাঁর ভাইকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পরিবারের জন্য এই হত্যাকাণ্ডের ক্ষতি আরও গভীর। নিহত হৃদয় চার সন্তানের বাবা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগের পাশাপাশি ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি, হামলায় কারা সরাসরি অংশ নিয়েছেন এবং প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

অভিযানে পুলিশ, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ হস্তান্তর

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে হৃদয়ের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর ধরন ও আঘাতের বিষয়ে চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে হামলার প্রকৃত ঘটনা এবং অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতা প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, অন্যান্য প্রমাণ ও তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে সহিংসতা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ঘটনাটি জনবসতিপূর্ণ একটি এলাকায় সংঘটিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারও ছবি তোলার মতো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলা ও প্রাণহানির অভিযোগ পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।

ছবি তোলার অধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং অন্যের সম্মতির বিষয়গুলো সামাজিক আচরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারও আপত্তি থাকলে তা সম্মান করা এবং বিরোধ দেখা দিলে আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়াই দায়িত্বশীল আচরণ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং আদালতে প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। হৃদয় কুমার হরিজন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর পরিবার।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।