আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে ফিরেছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। প্রথম ইনিংসে ৫৩ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের এই ডানহাতি ব্যাটার। দেশের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারছিলেন না লিটন। তাঁর ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়েও আলোচনা ছিল। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই ইনিংসেই ফিফটি করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। উইকেটের পেছনে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যাট হাতে দলের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখাও তাঁর অন্যতম দায়িত্ব। আবুধাবিতে পরপর দুই ইনিংসে অর্ধশতক সেই দায়িত্ব পালনে তাঁর ইতিবাচক প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চতুর্থ দিন সকালে আগের দিনের অপরাজিত ৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন লিটন। ধীরে ধীরে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সুযোগ বুঝে আক্রমণাত্মক শট খেলেছেন তিনি। ৭৬তম ওভারের শেষ বলে আফগানিস্তানের বোলার জিয়া উর রহমানের বলে এক রান নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার।
বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এর আগে ৯ হাজার বা তার বেশি রান করেছেন মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ। তাঁদের পর এই তালিকায় পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা করে নিলেন লিটন। দীর্ঘদিন ধরে তিন সংস্করণে খেলে আসা এই ব্যাটারের ক্যারিয়ারে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
দুইবার জীবন পেয়ে ইনিংস বড় করলেন লিটন
দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি পূর্ণ করার পথে অবশ্য দুবার আউট হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যান লিটন। ব্যক্তিগত ১৪ ও ২৬ রানে তাঁর ক্যাচের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। দুইবারই বোলিংয়ে ছিলেন কায়েস আহমেদ। কিন্তু আফগানিস্তানের ফিল্ডাররা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেননি।
প্রথমবার স্লিপে লিটনের ক্যাচ ফেলে দেন কামাল। পরে আরেকটি ক্যাচ ধরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন বোলার কায়েস আহমেদ নিজেই। সেই চেষ্টার সময় তাঁকে ব্যথায় কাতরাতেও দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ দুটি সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় লিটন ইনিংস বড় করার সুযোগ পান।
সুযোগ পেয়ে তা কাজে লাগাতে পিছপা হননি তিনি। ৬১ বলে দ্বিতীয় ইনিংসের অর্ধশতক পূর্ণ করেন লিটন। বাউন্ডারি মারার সুযোগ পেলে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী সিঙ্গেল নিয়ে রানও বাড়িয়েছেন। ফলে ইনিংসে আক্রমণ ও সতর্কতার একটি ভারসাম্য দেখা গেছে।
প্রথম ইনিংসে ৫৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিফটি পাওয়ায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাঁর ব্যাটিং বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে বড় ইনিংস গড়তে ধৈর্য, মনোযোগ ও পরিস্থিতি বুঝে খেলার প্রয়োজন হয়। লিটনের এই ইনিংসে সেই বৈশিষ্ট্যগুলোর পাশাপাশি ভাগ্যের সহায়তাও ছিল।
তিন সংস্করণে লিটনের পরিসংখ্যান
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই বাংলাদেশের হয়ে উল্লেখযোগ্য রান করেছেন লিটন। টেস্টে তাঁর সংগ্রহ ৩ হাজার ৪০৯ রান। এই সংস্করণে ছয়টি শতক ও ২২টি অর্ধশতক রয়েছে তাঁর নামের পাশে।
ওয়ানডেতে ২ হাজার ৮৬৯ রান করেছেন লিটন। এ সংস্করণে তাঁর শতক পাঁচটি এবং অর্ধশতক ১৪টি। অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে ১২৪টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যা এই সংস্করণে দেশের হয়ে তাঁর সর্বোচ্চ ম্যাচসংখ্যা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে তাঁর রান ২ হাজার ৭০৪, অর্ধশতক ১৬টি। এই সংস্করণে এখনো কোনো শতক করেননি তিনি।
লিটনের ব্যাটিং পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, তিন ধরনের ক্রিকেটেই তাঁর অবদান রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখাই একজন ব্যাটারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে টেস্টে দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে রান করা এবং সীমিত ওভারে দ্রুত রান তোলার মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা সামলে নেওয়ার অভিজ্ঞতা লিটনের রয়েছে।
ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রত্যাশা
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রান পূর্ণ করা একজন ব্যাটারের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। লিটনের ক্ষেত্রেও এই অর্জন এসেছে তিন সংস্করণে খেলার অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দলের হয়ে অবদান রাখার মধ্য দিয়ে। তবে ব্যক্তিগত মাইলফলকের পাশাপাশি দলের প্রয়োজনের সময় কার্যকর ইনিংস খেলতে পারাটাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে দুই ইনিংসে অর্ধশতক তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ের অনিয়মিত পারফরম্যান্স পেছনে ফেলে নিয়মিত রান করতে পারলে তা বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের জন্যও স্বস্তির খবর হবে। অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে লিটন পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও এই ছন্দ ধরে রাখতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।









