এসআরবি-৪-এর তথ্য অনুযায়ী, নূর হোসেনের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই আবুল হোসেন ও ভাতিজাদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল বলে জানা গেছে। গত ১০ অক্টোবর সকালে আবাদি জমি থেকে ফসল সংগ্রহ করতে গিয়ে নূর হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন সকালে নূর হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জমিতে ফসল কাটতে গেলে আবুল হোসেন ও তাঁর ছেলে সোহেল সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় তাঁরা নূর হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন। নূর হোসেন এর প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আবুল হোসেন ও সোহেল তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার সময় বাঁশের লাঠি দিয়ে নূর হোসেনের মাথায় একাধিকবার আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে রক্ষা করতে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় নূর হোসেনের বোন, মেয়ে ও জামাতা মারধরের শিকার হন এবং গুরুতর আহত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা আহত নূর হোসেনকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত নূর হোসেনের মেয়ে বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপরতা শুরু করে।
এসআরবি-৪ জানায়, ঘটনার পরপরই তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার কাঁচপুর এলাকায় তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে আবুল হোসেন ও তাঁর ছেলে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর দুজনকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৪।
জমি ও ফসলের ভাগ নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এমন প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিরোধের প্রকৃত কারণ, হামলায় প্রত্যেকের ভূমিকা এবং ঘটনার অন্যান্য দিক তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় এসব বিষয় উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।









