দেশে হামের সংক্রমণ ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ১৮০ জনের শরীরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।
রোববার (১১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৪ জন। বাকি ১ হাজার ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ২৮ জনে। তাঁদের মধ্যে ২২ হাজার ৪২১ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, সন্দেহজনক রোগীদের একটি অংশের ক্ষেত্রে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে, উপসর্গ থাকা সব রোগীর ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে—এমনটি বলা যাচ্ছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৭ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন। অর্থাৎ, বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি কিংবা শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ানো ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে অন্য কেউ সংক্রমিত হতে পারেন। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এ রোগের পরিচিত লক্ষণ। তবে সব ক্ষেত্রে লক্ষণ একই রকম নাও হতে পারে।
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে হাম জটিল আকার ধারণ করতে পারে। আক্রান্ত শিশুর নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা কিংবা অন্যান্য জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। যথাসময়ে চিকিৎসা না পেলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে।
শিশুদের সুরক্ষায় টিকাদান গুরুত্বপূর্ণ
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা গ্রহণ। শিশুর টিকাদানের কার্ড যাচাই করে বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডোজ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ডোজ বাদ পড়লে বা টিকা গ্রহণের বিষয়ে সংশয় থাকলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শিশুর জ্বরের সঙ্গে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে কিংবা হামের অন্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক নিস্তেজতা, খেতে না পারা বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি করা ঠিক নয়। সন্দেহভাজন রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে বিষয়টি জানালে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
এদিকে, দেশে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। নতুন রোগী শনাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনার পাশাপাশি সংক্রমণের বিস্তার রোধে জনসচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা এবং টিকাদান কার্যক্রমের গুরুত্বও বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে বিপুলসংখ্যক মানুষ হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।









