,

মিমের দেড়শ, নাঈমের সেঞ্চুরি, মাহেদীর ছয় উইকেট

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দিন ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের একাধিক তারকা। রংপুর বিভাগের হয়ে মিম মোসাদ্দেক খেলেছেন ১৫৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ঢাকা বিভাগের ওপেনার নাঈম শেখ দিন শেষ করেছেন অপরাজিত ১৩১ রানে। অন্যদিকে, খুলনার অফস্পিনার মাহেদী হাসানের ঘূর্ণিতে মাত্র ১১৯ রানেই গুটিয়ে গেছে রাজশাহী বিভাগের প্রথম ইনিংস। চারটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংসের পাশাপাশি বোলারদের কার্যকর পারফরম্যান্সও ছিল দিনের অন্যতম আকর্ষণ।

বরিশাল বিভাগের মঈন খান সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৯৭ রান। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনটি ছিল রান, জুটি ও উইকেটের লড়াইয়ে ভরপুর।

রাজশাহীকে ১১৯ রানে গুটিয়ে দিলেন মাহেদী

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খুলনার বিপক্ষে শুরু থেকেই চাপে পড়ে রাজশাহী বিভাগ। মাহেদী হাসানের দুর্দান্ত স্পিনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৯ রানেই অলআউট হয় দলটি। ১৪ ওভার বল করে ৩৮ রান দিয়ে ছয় উইকেট নেন এই অফস্পিনার। তাঁকে দারুণভাবে সহায়তা করেন সফর আলী, যিনি তুলে নেন তিনটি উইকেট।

রাজশাহীর ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ওপেনার সাব্বির হোসেনই তুলনামূলকভাবে প্রতিরোধ গড়তে পেরেছেন। তাঁর সংগ্রহ ৩৬ রান। বাকিরা কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মাহেদীর নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও সফর আলীর কার্যকর সহায়তায় রাজশাহীর ইনিংস দ্রুত শেষ হয়ে যায়।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে খুলনা। প্রথম দিনের খেলা শেষে তাদের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১০৮ রান। আজিজুল হাকিম ৫৫ এবং কালাম সিদ্দিকী অলিন ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। হাতে নয় উইকেট রেখে প্রথম ইনিংসে রাজশাহীর সংগ্রহ ছাড়িয়ে যেতে খুলনার প্রয়োজন মাত্র ১২ রান।

মঈনের ৯৭ রান, বরিশালের সংগ্রহ ২৮২

কক্সবাজার স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৮২ রান করে অলআউট হয়েছে বরিশাল বিভাগ। দলের পক্ষে মঈন খান খেলেছেন ৯৭ রানের মূল্যবান ইনিংস। মাত্র তিন রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও তাঁর ব্যাটিং বরিশালকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দিয়েছে।

মঈনের পাশাপাশি জাওয়াদ আবরার ৬৩ রান করে দলের ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। হাফিজুর রহমান করেন ৪৪ রান এবং আব্দুল্লাহ সিফাতের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান। কয়েকজন ব্যাটসম্যানের কার্যকর অবদান সত্ত্বেও বড় জুটি গড়ে তুলতে না পারায় বরিশালের ইনিংস ৩০০ রানের আগেই থেমে যায়।

চট্টগ্রামের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মুরাদ। তিনি চারটি উইকেট নেন। মোহাম্মদ রুবেল ও আহমেদ শরিফ দুটি করে উইকেট পেয়েছেন। তাঁদের বোলিংয়ে বরিশালের ব্যাটিং লাইনআপকে শেষ পর্যন্ত আটকে রাখা সম্ভব হয়।

দিনের শেষ ভাগে ব্যাট করতে নেমে ভালো সূচনা পেয়েছে চট্টগ্রাম। কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭২ রান তুলে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছে তারা। মাহমুদুল হাসান জয় ২৯ এবং সাদিকুর রহমান ৪১ রানে অপরাজিত আছেন। প্রথম ইনিংসে বরিশালের সংগ্রহ টপকাতে চট্টগ্রামের প্রয়োজন আরও ২১১ রান। দ্বিতীয় দিনে দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যানের ওপরই থাকবে দলের ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব।

মিমের ১৫৭ রানে রংপুরের বড় সংগ্রহ

সিলেটের একাডেমি গ্রাউন্ডে ময়মনসিংহ বিভাগের বিপক্ষে বড় সংগ্রহের ভিত গড়েছে রংপুর বিভাগ। প্রথম দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৭০ রান। দলের ওপেনার মিম মোসাদ্দেক ১৫৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দিনের অন্যতম সেরা ব্যাটিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় রংপুর। তবে শুরুতেই অনিক সরকারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে দলটি। এরপর মিম ও ইকবাল হোসেনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় রংপুর। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনের ২০৮ রানের জুটি দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যায়। ২১২ বলের ইনিংসে মিম ২৩টি বাউন্ডারি মারেন। ইকবাল ৭৮ রান করে আউট হন।

চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত রান তোলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। ৮৮ বলে আটটি চার ও একটি ছক্কায় ৬১ রান করেন তিনি। মিমের সেঞ্চুরি পেরিয়ে দেড়শতে পৌঁছানো রংপুরের ইনিংসকে আরও শক্তিশালী করে। তবে দিনের শেষ সেশনে আজিজুল হাকিম রনির বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মিম।

আকবর আলী করেন ৩০ রান। প্রথম দিনের খেলা শেষে চৌধুরী রিজওয়ান ও আলাউদ্দিন বাবু অপরাজিত রয়েছেন। হাতে চার উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় দিনে আরও রান যোগ করার সুযোগ থাকছে রংপুরের সামনে।

নাঈমের অপরাজিত ১৩১, ঢাকার সংগ্রহ ৩৪৩

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক সিলেট বিভাগের বিপক্ষে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন ঢাকা বিভাগের ওপেনার নাঈম শেখ। প্রথম দিনের খেলা শেষে ঢাকা ২ উইকেটে ৩৪৩ রান সংগ্রহ করেছে। নাঈম ১৩১ রানে অপরাজিত রয়েছেন। পরে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লেও তাঁর ইনিংস ঢাকাকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

দিনের শুরুতে পেসার তোফায়েলের একটি বল নাঈমের প্যাডে আঘাত করলে জোরালো আবেদন করে সিলেট। তবে আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। এরপর বড় ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন এই ওপেনার। আগের ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর এবার সেঞ্চুরি করে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

ওপেনিংয়ে নাঈমের সঙ্গে ১৫৫ রানের জুটি গড়েন জিসান আলম। তিনি ৮১ রান করে আউট হন। মাত্র ১৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন এই ব্যাটসম্যান। তাঁদের জুটি ঢাকার বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেয়।

পরবর্তী সময়ে দলের রান বাড়ান মার্শাল আইয়ুব। ১১১ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কায় ৮০ রান করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ৩২ রানে অপরাজিত আছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। দুই উইকেট হারিয়ে ৩৪৩ রান নিয়ে দিন শেষ করায় দ্বিতীয় ইনিংসের আগে নয়, বরং প্রথম ইনিংসেই বড় সংগ্রহ গড়ার ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছে ঢাকার সামনে।

এনসিএলের দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দিন ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংস ও বোলারদের কার্যকর পারফরম্যান্সে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিমের দেড়শ, নাঈমের সেঞ্চুরি এবং মাহেদীর ছয় উইকেটের পাশাপাশি মঈনের ৯৭ রানও দিনের উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। দ্বিতীয় দিনে চার ম্যাচের লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে বর্তমান অবস্থান থেকে দলগুলোর রান বাড়ানো এবং প্রতিপক্ষের উইকেট তুলে নেওয়ার সক্ষমতা।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।