,

গুলশানে ১৪৪ বোতল বাংলা মদসহ অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানের প্রগতি সরণিতে ট্রাফিক পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে ১৪৪ বোতল বাংলা মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. শফিকুল ইসলাম (৪৭) নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অটোরিকশায় থাকা অপর এক ব্যক্তি পুলিশের থামার সংকেত পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ট্রাফিক-গুলশান বিভাগের বাড্ডা জোনের একটি চেকপোস্টে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার শফিকুল ইসলামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলশানের প্রগতি সরণিতে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের সময় ট্রাফিক পুলিশ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেয়। এ সময় অটোরিকশাটিতে থাকা এক ব্যক্তি দ্রুত সরে পড়েন। তাঁর এমন আচরণে সন্দেহ হলে পুলিশ যানবাহনটিতে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে অটোরিকশার ভেতরে তিনটি বস্তায় মোড়ানো অবস্থায় ১৪৪ বোতল বাংলা মদ পাওয়া যায়। পরে চালক শফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়।

থানা পুলিশের উদ্যোগে জব্দ তালিকা

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন। তিনি জানান, ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্টে সন্দেহজনক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে মদের বোতলগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জব্দ তালিকা তৈরির দায়িত্ব থানা পুলিশ পালন করেছে।

তিনি বলেন, ট্রাফিক পুলিশ ঘটনাটি শনাক্ত করে মদ উদ্ধার করলেও আইন অনুযায়ী জব্দ তালিকা তৈরির জন্য থানা পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। পরে উদ্ধার করা মদ ও আটক ব্যক্তিকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উজ্জ্বল হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় অটোরিকশাচালক শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। উদ্ধার করা মদের উৎস, এটি কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

বাড্ডা জোনের ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) দেলোয়ার হোসেন জানান, চেকপোস্টে অটোরিকশাটিকে থামানোর পর এক যাত্রীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা পুলিশের সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়। এরপর যানবাহনটিতে তল্লাশি চালানো হলে তিনটি বস্তার মধ্যে রাখা মদের বোতলগুলো পাওয়া যায়। এ সময় চালককে আটক করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মদ পরিবহনের উৎস ও গন্তব্য নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন তল্লাশি ও চেকপোস্ট পরিচালনার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সন্দেহজনক পরিবহন শনাক্ত করা এবং আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা। তবে কোনো যানবাহনে অবৈধ পণ্য পাওয়া গেলে সেটির উৎস, পরিবহনের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ ঘটনায় ১৪৪ বোতল বাংলা মদ উদ্ধারের পাশাপাশি অটোরিকশায় থাকা অপর ব্যক্তির পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেতে পারে। ওই ব্যক্তি চালকের পরিচিত কি না, মদ পরিবহনের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না এবং চালক পণ্যগুলোর মালিকানা বা পরিবহনের বিষয়ে কী তথ্য দিতে পারেন—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব।

তবে এখন পর্যন্ত পুলিশের দেওয়া তথ্যের বাইরে মদের প্রকৃত মালিক, এর সরবরাহকারী কিংবা নির্দিষ্ট গন্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে, পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তির পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মদ এবং গ্রেপ্তার চালককে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্তের মাধ্যমে মদ পরিবহনের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্‌ঘাটনের বিষয়টি পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।