চলতি মাসে অনুষ্ঠেয় এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে—দুই দলই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলার সামর্থ্য রাখে। ফলে প্রতিটি ম্যাচেই ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা লিটন দাসের দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
নেতৃত্বে লিটন, সহ-অধিনায়ক হৃদয়
ঘোষিত স্কোয়াডে অধিনায়ক হিসেবে লিটন দাসের ওপর আস্থা রেখেছে বিসিবি। তাঁর সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। দলের ব্যাটিং বিভাগে রয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের মতো পরিচিত মুখ। তাঁদের সঙ্গে তাওহীদ হৃদয়ের উপস্থিতি বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে।
উইকেটরক্ষক হিসেবে দলে রয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। অন্যদিকে অলরাউন্ডারদের মধ্যে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতেও অবদান রাখার সামর্থ্য থাকায় সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এ ধরনের খেলোয়াড়দের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁদের ব্যবহার করার সুযোগও থাকবে টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে।
বোলিং বিভাগে অভিজ্ঞতা ও বৈচিত্র্যের সমন্বয় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। পেস আক্রমণে রয়েছেন তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। স্পিন বিভাগে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে আছেন রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম ও আলিস আল ইসলাম। প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ের ধরন এবং মাঠের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই বোলারদের কাজে লাগাতে পারবে বাংলাদেশ।
স্কোয়াডে আলিস, নেই নাহিদ রানা
ঘোষিত দলে আলোচনার অন্যতম বিষয় আলিস আল ইসলামের অন্তর্ভুক্তি। সর্বশেষ এশিয়ান গেমসের দলেও ছিলেন এই ক্রিকেটার। এবার জাতীয় দলের ওয়ানডে স্কোয়াডে সুযোগ পেয়ে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সামনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ত্রিদেশীয় সিরিজে সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি দলের স্পিন বিভাগেও অবদান রাখার সুযোগ পাবেন।
তবে বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা নাহিদ রানার অনুপস্থিতি। চোটের কারণে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেও ছিটকে গেছেন এই পেসার। তাঁর অনুপস্থিতিতে পেস আক্রমণের দায়িত্ব আরও বেশি ভাগ করে নিতে হবে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলামকে।
আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন বলে উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি মাঝের ওভারগুলোতে রান নিয়ন্ত্রণ এবং শেষ দিকে কার্যকর বোলিং করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই নাহিদ রানার জায়গায় অন্য পেসারদের কাছ থেকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করবে দল। একই সঙ্গে ফিল্ডিং ও ক্যাচিংয়ের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হবে।
১৭ অক্টোবর শুরু বাংলাদেশের অভিযান
সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৭ অক্টোবর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে। এরপর ১৯ অক্টোবর মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান। ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২৩ অক্টোবর।
বাংলাদেশের জন্য প্রথম ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভালো শুরু করতে পারলে পরবর্তী ম্যাচে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটারদের স্পিন মোকাবিলার দক্ষতা এবং বোলারদের পরিকল্পিত আক্রমণ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশনে মাঠের ধরন, তাপমাত্রা এবং পিচের আচরণও ম্যাচের ফল নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্দিষ্ট মাঠের পিচ ও আবহাওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো একটি বিভাগকে বাড়তি সুবিধায় আছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। দল নির্বাচন ও একাদশ সাজানোর ক্ষেত্রে এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের স্কোয়াড
1. লিটন দাস (অধিনায়ক)
2. তাওহীদ হৃদয় (সহ-অধিনায়ক)
3. তানজিদ হাসান তামিম
4. মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন
5. সৌম্য সরকার
6. নাজমুল হোসেন শান্ত
7. মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত
8. মেহেদী হাসান মিরাজ
9. নুরুল হাসান সোহান
10. রিশাদ হোসেন
11. তানভীর ইসলাম
12. তাসকিন আহমেদ
13. মোস্তাফিজুর রহমান
14. হাসান মাহমুদ
15. শরিফুল ইসলাম
16. আলিস আল ইসলাম
এই সিরিজে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হবে দলীয় সমন্বয় কাজে লাগিয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া। ব্যাটিংয়ে বড় জুটি গড়া, মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট ধরে রাখা এবং বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ওপর সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে। লিটন দাসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল কতটা কার্যকরভাবে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে, তা স্পষ্ট হবে ১৭ অক্টোবরের প্রথম ম্যাচ থেকেই। ফাইনাল ২৩ অক্টোবর হওয়ায় শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে শুরু থেকেই প্রতিটি ম্যাচে ভালো ফল অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ।









