নিহতরা হলেন নিলাক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া গ্রামের উফেজা বেগম (৬৫) ও তাঁর পুত্রবধূ ফরিদা বেগম (৩৫)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় তাঁরা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের রৌমারীগামী শান্তি পরিবহণের একটি বাস তাঁদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে বাসটি ঢাকা থেকে ছেড়ে বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলাক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া এলাকা অতিক্রম করছিল। ভোর ৬টার দিকে বাসটি ওই এলাকায় পৌঁছালে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা উফেজা বেগম ও ফরিদা বেগম দুর্ঘটনার শিকার হন। বাসের ধাক্কায় তাঁরা গুরুতর আহত হন এবং প্রাণ হারান। তবে কী কারণে বাসটি তাঁদের চাপা দিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁদের স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও ঘটনাটি গভীর বেদনার। বিশেষ করে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য ও তাঁর পুত্রবধূর একসঙ্গে প্রাণহানির ঘটনায় স্বজনদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ দুর্ঘটনায় জড়িত শান্তি পরিবহণের বাসটি জব্দ করে এবং বাসের হেলপার মহিউদ্দিনকে আটক করে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এর হেলপারকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মহাসড়কে পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
বকশীগঞ্জের এ দুর্ঘটনা সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা জরুরি। এসব এলাকায় পথচারীদের উপস্থিতি, সড়কের পাশের বসতবাড়ি এবং স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন চলাচল বিবেচনায় রেখে চালকদের দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালানো প্রয়োজন।
সড়ক দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে যানবাহনের গতি, চালকের সতর্কতা, দৃশ্যমানতা, সড়কের অবস্থা এবং আশপাশের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এ ঘটনায় এসবের কোনটি ভূমিকা রেখেছে, তা তদন্তের তথ্য ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান প্রয়োজন।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানো গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চিহ্নিত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্কতামূলক সংকেত স্থাপন এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।
বকশীগঞ্জে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর প্রাণহানির ঘটনায় এখন দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। নিহতদের পরিবারের জন্য এ ক্ষতি অপূরণীয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি মহাসড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।









