সাম্প্রতিক সময়ে পর্তুগাল জাতীয় দলকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর ক্লাবের জার্সিতে রোনালদোর এই প্রত্যাবর্তন ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ না পাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে কোচের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে আল নাসরের সমর্থকেরা তাঁকে ঘিরে নিজেদের সমর্থনের কথা স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর উয়েফা নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে বদলি খেলোয়াড়দের বেঞ্চে বসে ছিলেন রোনালদো। পুরো ম্যাচে তাঁকে মাঠে নামানো হয়নি। এরপর তিনি পর্তুগাল দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান। পরে রোনালদো অভিযোগ করেন, আল নাসরের কোচ জর্জ জেসুস তাঁকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা রক্ষা করেননি। গত মৌসুমে সৌদি আরবের ক্লাবটিতে জেসুসের অধীনে খেলেছিলেন তিনি।
জাতীয় দলের এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা চললেও ক্লাবের মাঠে রোনালদোকে স্বাগত জানাতে কোনো কার্পণ্য করেননি আল নাসরের সমর্থকেরা। সৌদি প্রো লিগে ফেরার ম্যাচে গ্যালারিতে তাঁর জন্য বড় একটি ব্যানার প্রদর্শন করা হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘গ্রেটনেস অর্জন করতে হয়’। ব্যানারে রোনালদোর পরিচিত সাত নম্বর জার্সির নম্বরও তুলে ধরা হয়। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে গ্যালারিতে সমর্থকেরা তাঁর নাম ধরে গান গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
সমর্থকদের সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে খুব বেশি সময় নেননি রোনালদো। ম্যাচের ২৩তম মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক উইঙ্গার কিংসলে কোমানের নেওয়া শট আল দিরিয়ার গোলরক্ষক ওয়ালিদ আলী ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফিরতি বল পেয়ে সুযোগ কাজে লাগান রোনালদো। কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে নিজের নাম লেখান স্কোরশিটে।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে আল নাসর। ৩৫তম মিনিটে সামু কস্তা গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। নির্ধারিত সময়ের ১৩ মিনিট আগে, অর্থাৎ ৭৭তম মিনিটে কোমান নিজেই গোল করে দলের ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয়ের ফলে সৌদি প্রো লিগের পয়েন্ট তালিকায় আল কাদসিয়ার সমান পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে আল নাসর। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় শীর্ষস্থান থেকে দূরে রয়েছে দলটি। সপ্তাহান্তে অন্য কয়েকটি দলের ম্যাচ বাকি থাকায় পয়েন্ট তালিকার অবস্থানে পরিবর্তন আসারও সম্ভাবনা রয়েছে।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গোল উদযাপনের একটি ছবি প্রকাশ করেন রোনালদো। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘কাজ শেষ। এবার পরের ম্যাচ!’ তাঁর এই বার্তা থেকে বোঝা যায়, সাম্প্রতিক বিতর্ক পেছনে ফেলে পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকেই মনোযোগ দিতে চান তিনি।
পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়েও রোনালদোর অর্জন উল্লেখযোগ্য। দেশের হয়ে ২৩৪টি ম্যাচ খেলে তাঁর গোলসংখ্যা ১৪৬, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি অনন্য রেকর্ড। সপ্তাহের শুরুতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য তিনি এখনো প্রস্তুত। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে কোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
জাতীয় দলকে ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকলেও আল নাসরের হয়ে রোনালদোর এই প্রত্যাবর্তন তাঁর সমর্থকদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। মাঠে গোল করে তিনি আবারও দেখিয়েছেন, বয়স ৪১ পেরোলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবলে নিজের প্রভাব ধরে রাখতে কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।









