জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রধান ফটকের সামনে ছয় দফা দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী। রাজনৈতিক কারণে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, হয়রানিমূলক মামলা বাতিল এবং রাজবন্দিদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
তবে মানববন্ধনটি ঠিক কখন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্মসূচির কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ছয়জন ব্যক্তি পোস্টার হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁদের হাতে থাকা পোস্টারগুলোতে পৃথকভাবে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়। ছবিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
তাঁরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী এম এইচ লালন, রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আল মাহমুদ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল সাদ এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সজিব। অপর দুজনের মধ্যে একজনের মাথায় হেলমেট এবং অন্যজনের মুখে মাস্ক থাকায় তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
মানববন্ধনে উত্থাপিত প্রথম দাবিতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কারণে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া কথিত অবৈধ আইসিটি ট্রাইব্যুনাল বাতিল, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়। রাজনৈতিক কারণে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন শাস্তিমূলক ও আইনি পদক্ষেপ নিয়েও কর্মসূচিতে আপত্তি জানানো হয়েছে।
মানববন্ধনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়। শামীম মোল্লা, মাসুদ ও তোফাজ্জালসহ বিভিন্ন ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিষয়টিও ছিল তাঁদের দাবির তালিকায়। ধর্ষণ ও বলৎকারসহ নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ বন্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া হাম টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত এবং এ-সংক্রান্ত শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করা হয়েছে। কর্মসূচির ষষ্ঠ দাবিতে ‘সাম্রাজ্যবাদী গোলামী’ হিসেবে আখ্যায়িত বিভিন্ন চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে তেল, গ্যাস, সার ও বিদ্যুতের সুলভ মূল্য নির্ধারণের দাবিও তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, মানববন্ধনের সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জেফরুল হাসান চৌধুরী বলেন, তাঁরা বিষয়টি সম্প্রতি জানতে পেরেছেন। তবে কর্মসূচিটি কখন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ছাত্রলীগের কর্মীরা কখন কী করছে, সে বিষয়ে সজাগ থাকার জন্য নিরাপত্তা শাখাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা মানববন্ধনের একটি ছবি দেখেছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।
ফুটেজ পাওয়ার পর মানববন্ধনটি কখন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা নিশ্চিত করা হবে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান প্রক্টর।









